ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৪৭টি বই পাওয়া যায়নি। মাধ্যমিক পর্যায়ে জেলায় মোট পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা ছিল ১২ লাখ ২৮ হাজার ৬৮১টি। নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৩৪টি বই, যা মোট চাহিদার ৪০ দশমিক ৪০ শতাংশ বলে জানায় জেলা শিক্ষা অফিস।জানা যায়, ঘাটতি অর্ধেকেরও বেশি। ফলে সদর, টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, গজারিয়া, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পুরো সেট বই পাচ্ছে না। বছরের প্রথম দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই না পাওয়ার কারণে পড়া-লেখায় নেতিবাচক প্রভাব পরবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে বিপুল পরিমাণ বইয়ের এই ঘাটতি কবে নাগাদ পূরণ করা হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি জেলা শিক্ষা অফিসার।এ দিকে দাখিল শাখায় জেলায় মোট চাহিদা ছিল এক লাখ ৬৫ হাজার ৩৪৬টি বই। এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৮১ হাজার ৬০৭টি, যা প্রায় ৪৯ শতাংশ। ফলে নতুন বছরের প্রথম দিনেও দাখিল স্তরে প্রায় ৮৩ হাজার ৭৩৯টি বই ঘাটতি রয়েছে। তবে ইবতেদায়ি স্তরে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৫০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই পাওয়া গেছে।এসএসসি ভোকেশনালে ২১ হাজার ৪৯০টি, দাখিল ভোকেশনালে এক হাজার ৫৪০টি এবং ব্রেইলে ১২টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে কারিগরি ট্রেডে মোট ২৮ হাজার ৯৮৫টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৬৭০টি। এতে কারিগরি শাখায় এখনো ১৪ হাজার ৩১৫টি বই ঘাটতি রয়েছে।আরও পড়ুন: তিন শ্রেণির বই ছাপাতে হয়নি চুক্তি, বছরের প্রথমদিন হাতে পাবে তো শিক্ষার্থীরা?এ নিয়ে টঙ্গীবাড়ির শিক্ষক মোশরাফ হোসেন বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের ব্যাপারে সরকারের আরও যত্নবান হওয়া উচিত ছিল।’মুন্সীগঞ্জ শহরের খালইস্টের অভিভাবক মাহাবুব আলম বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তুক যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছার কারণে নানারকম সমস্যা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে কারও যদি ব্যর্থতা থাকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে। বই মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই বাকি বইগুলোও পর্যায়ক্রমে জেলার ছয় উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া হবে।অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণের চিত্র তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে বরাদ্দকৃত সব বই শতভাগ পাওয়া গেছে।আরও পড়ুন: ১ জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে নতুন বই: উপদেষ্টা বিধান রঞ্জনতবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ভার্সনে বরাদ্দ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৪২টি বইয়ের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩ লাখ এক হাজার ১৩৭টি। ফলে প্রাথমিক স্তরে এখনো ১৫ হাজার ৩০৫টি বই ঘাটতি রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব বই দ্রুত সরবরাহ করা হলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বই পাবে।মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই জেলার প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে।মাধ্যমিকে সবচেয়ে কম প্রাপ্তি গজারিয়ায় মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলার মধ্যে মাধ্যমিকের বই সবচেয়ে কম প্রাপ্তি গজারিয়ায় ৩৪ শতাংশ। আর বেশি সদর উপজেলায় ৪৫ শতাংশ। আর জেলায় প্রাপ্তির গড় হার ৪০ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে অর্ধেকের বেশি বইয়ের ঘাটতি কবে নাগাদ পূরণ করা যাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন: নতুন বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পরিবর্তন, অভিভাবকদের জন্য ছাপা হচ্ছে গাইডমুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় তিন লাখ ৮ হাজার ২৫০ বইয়ের চাহিদার বিপরীতে নতুন বই পাওয়া গেছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৮০০টি বই, প্রাপ্তির হার ৪৫ শতাংশ। গজারিয়া উপজেলায় এক লাখ ৪৪ হাজার ১৮৪টির মধ্যে পাওয়া গেছে ৪৯ হাজার ৩৪১টি, প্রাপ্তির হার ৩৪ শতাংশ। সিরাজদিখান উপজেলায় দুই লাখ ৫৯ হাজার ৭০০টির মধ্যে নতুন বই পাওয়া গেছে ৯৭ হাজার ১৪৫টি, প্রাপ্তির হার ৩৭ শতাংশ। শ্রীনগর উপজেলায় দুই লাখ ২৬ হাজার ৮১টির মধ্যে ৯৩ হাজার ৭৪৮টি বই পাওয়া গেছে, প্রাপ্তির হার ৪১ শতাংশ।টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় এক লাখ ৫৫ হাজার চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬১ হাজার ৫০০টি বই, প্রাপ্তির হার ৪০ শতাংশ। লৌহজং উপজেলায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৬ বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ৫৫ হাজার ৬০০টি, প্রাপ্তির হার ৪১ শতাংশ।