উত্তরের বিভাগীয় শহর রংপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ। গেল এক বছরে শুধু রংপুর জেলাতেই ৬৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি ও ছিনতাই। একের পর এক নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে এখন কেবলই ভয় আর আতঙ্ক।প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক কিছু লোমহর্ষক ঘটনার কথা। গত ৬ ডিসেম্বর তারাগঞ্জে টাকার জন্য এক দম্পতিকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এক যুবক। এর আগে ১০ আগস্ট একই উপজেলার বুড়িরহাটে ভ্যান চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান রূপলাল ও প্রদীপ দাস নামে দুই ব্যক্তি।গত এক বছরের অপরাধের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: গত এক মাসে ৬৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই সময়ে ৩৭টি ধর্ষণ, ১০টি অপহরণ, ৫৫টি চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১০৪টি। এতে উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে।নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চপল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘কীভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে! আমাদেরও তো মেরে ফেলতে পারে। জঙ্গলের আশেপাশে আমার বাড়ি, আমাকে যে মেরে ফেলবে না তার গ্যারান্টি কী?’ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। রংপুর সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি জুয়েল মিয়া জানান, বেতপট্টি মোড়ের স্বর্ণের দোকানগুলোর নিরাপত্তার জন্য আগে নিয়মিত পুলিশ টহল থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে প্রশাসনের কোনো দেখা নেই। ফলে পরপর বেশ কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে।একই সুর ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, প্রেস ক্লাব মার্কেটে অহরহ চুরি হচ্ছে। জাহাজ কোম্পানি মোড়ে নবরূপা টেলিকমে চুরির পর সিআইডি ফরেনসিক তদন্ত ও মামলা করলেও কোনো ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন: রংপুরে ধানক্ষেত থেকে অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার, শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগরংপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি আমরা লক্ষ্য করছি। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে শুধু রংপুর নয়, সারা দেশেই ভয়াবহ চিত্র তৈরি হতে পারে।’ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।আরও পড়ুন: রংপুরে স্বামী-স্ত্রী হত্যা: টাইলস মিস্ত্রি গ্রেফতারআইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘রাত্রিকালীন টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতে সাধারণত গরু চুরি বাড়লেও গত দুই মাস ধরে আমাদের তৎপরতায় তা অনেক কমেছে।’ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ঘটনায় আসামিদের ধরতে তারা সফল হয়েছেন। কোনো অপরাধীই আইনের ফাঁক দিয়ে পার পাবে না বলে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন।রংপুর জেলাবাসীর দাবি, কেবল আশ্বাসে কাজ হবে না। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিন ও রাতে পর্যাপ্ত পুলিশি টহলের পাশাপাশি দ্রুত বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।