শান্তি, সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা

২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারির ভোরের সূর্য যখন বাংলার দিগন্তে উদিত হচ্ছে, তখন তা কেবল একটি নতুন পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা করছে না, বরং এক নতুন উদ্দীপনা ও গভীর আত্মবিশ্লেষণের বার্তা নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একদিকে দেশ তার স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পূর্ণ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির এক চ্যালেঞ্জিং সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন বছরের এই আলোকচ্ছটা যেমন : সম্ভাবনা জাগানিয়া, তেমনই তা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সব অসমাপ্ত কাজের কথা, যা একটি সমৃদ্ধ ও সাম্যবাদী জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য। শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি জনপদে আজ একটিই প্রতিধ্বনি—শান্তি ও অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই পথ না হারায়। ২০২৬ সালের শুরুর দিনগুলোতে দেশের মানুষের মনে এক ধরনের দ্বৈত মনস্তত্ত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে নতুন শুরুর উদ্দীপনা, যা আমাদের উৎসবপ্রিয় জাতির মজ্জাগত। ঢাকার অভিজাত পাড়া থেকে শুরু করে মফস্বলের অলিগলি আজ উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত। তরুণরা স্মার্টফোনের পর্দায় নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। কিন্তু এই উৎসবের আবহের সমান্তরালে বিরাজ করছে এক ধরনের সতর্ক ভাব। এটি সেই মানুষের সতর্কতা যারা বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তিত। ব্যক্তিগত উদ্বেগ আর জাতীয় আশাবাদ যখন একত্রে মিশে যায়, তখন ২০২৬ সালের চিত্রটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। এই নববর্ষ তাই কেবল স্রেফ উল্লাসের নয়, বরং এক গভীর দায়িত্ববোধের। ২০২৬ সালের নববর্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রধান কাম্য হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর মেরুদণ্ড হলো তার রাজনীতি। ২০২৬ সালটি জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষার বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের, যেখানে সংলাপের জায়গা থাকবে এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া কেবল গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে না, বরং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের পরিবেশকেও উন্নত করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকলে উন্নয়নের যে চাকা সচল রয়েছে, তা আরও গতিশীল হবে। রাজনৈতিক স্থায়িত্বই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে। ২০২৬ সাল হোক বৈষম্যহীনতার বছর, ২০২৬ সাল হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজয়ের বছর। আমাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ যখন জাতীয় সমৃদ্ধির স্রোতে মিশবে, তখনই বাংলাদেশ হবে সত্যিকারের সোনার বাংলা। আমাদের আকাঙ্ক্ষা যেন কেবল ব্যক্তিগত না হয়ে সমষ্টিগত হয়। নতুন বছরের আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক, প্রতিটি মানুষের জীবনে আসুক সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা। ২০২৬ সালে আমাদের একটাই শপথ—শান্তি, সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির পথে আমরা অবিচল থাকব। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু সুযোগ কমে গেলেও নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। তবে এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম উপেক্ষা করার মতো নয়। নতুন বছরে মানুষের বড় প্রত্যাশা হলো দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা। খাদ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৬ সালে সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার তদারকি জোরদার করা। অর্থনৈতিক অগ্রগতি তখনই সার্থক হবে, যখন তা সাধারণ মানুষের পাতে দু-মুঠো অন্ন নিশ্চিত করতে পারবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কর সুবিধা প্রদান করা হলে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা দেশের প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করবে। বাংলাদেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো তার বিপুল যুবসমাজ। ২০২৬ সালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জনের সুবর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং উদ্ভাবনী চিন্তায় পারদর্শী। ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির যে বিকাশ গত কয়েক বছরে ঘটেছে, ২০২৬ সাল হবে তার পূর্ণতা পাওয়ার বছর। নতুন বছরে যুবসমাজের প্রত্যাশা হলো—ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী হতে চায় না, বরং তারা হতে চায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী। তবে এই অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হলো শিক্ষার গুণগত মানের অভাব। ২০২৬ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিল রেখে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন এবং ডেটা সায়েন্সের মতো প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই হবে নতুন বছরের অন্যতম প্রধান জাতীয় লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। ২০২৬ সালের নববর্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের পরিবেশের ওপর মানুষের হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে খরা কৃষিজীবী মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। নববর্ষের কামনায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর অভিযোজন কৌশলের প্রয়োগ থাকা জরুরি। নদী ভাঙন রোধ এবং উপকূলীয় বনায়ন কেবল সরকারি প্রকল্প নয়, একে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। একই সাথে শহরের বায়ুদূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আধুনিকায়ন আমাদের জন্য কেবল অসুস্থতাই বয়ে আনবে। পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশের এক অন্যতম বড় সাফল্য হলেও ২০২৬ সালে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুষম বণ্টন এখনও এক বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। নতুন বছরে মানুষের প্রত্যাশা হলো সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা। স্বাস্থ্যবীমা বা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ২০২৬ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। মহামারি পরবর্তী বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকিৎসার খরচ। সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি এবং বেসরকারি হাসপাতালের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের প্রাণ হলো তার গ্রাম। ২০২৬ সালের নববর্ষে গ্রামীণ অর্থনীতির আধুনিকায়ন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং ই-কমার্সের প্রসারের ফলে কৃষকরা এখন সরাসরি বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই উন্নয়ন যেন কেবল ধনিক কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন মজুর এবং গ্রামীণ নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ২০২৬ সালে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে শহরমুখী জনস্রোত হ্রাস পায়। \'আমার গ্রাম আমার শহর\' ধারণাটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সাল হবে একটি মাইলফলক। গ্রামীণ মানুষের আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে জাতীয় জিডিপিতে তাদের অবদান আরও বাড়বে। বাংলাদেশ চিরকালই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ। ২০২৬ সালের নববর্ষ উদ্যাপনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সেই ঐতিহ্যকেই ধারণ করি। পহেলা বৈশাখ যেমন আমাদের বাঙালির আদি পরিচয় মনে করিয়ে দেয়, ইংরেজি নববর্ষ আমাদের বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ করে তোলে। এই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সামাজিক সংহতি বাড়াতে সাহায্য করে। নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ থাকা। শিল্পকলা, সাহিত্য এবং ক্রীড়াচর্চায় যুবসমাজকে উৎসাহিত করতে হবে যাতে তারা বিপথগামিতা থেকে দূরে থাকে। একটি সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক সমাজই পারে উগ্রতাকে রুখে দিতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে। উন্নয়ন কেবল সংখ্যাতত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না, এর একটি মানবিক ও নৈতিক দিকও থাকা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা ফিরিয়ে আনা এক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, নারীদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা একটি সভ্য সমাজের প্রথম শর্ত। প্রবীণদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী বা \'পেনশন স্কিম\' এর সঠিক বাস্তবায়ন তাদের বার্ধক্যকে নিরাপদ করবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে এবং জনপরিসরে নারীর অবাধ চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ২০২৬ সালের নববর্ষে প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম প্রধান দাবি। নৈতিকতা ও সততার প্রতিফলন যখন জাতীয় পর্যায়ে দেখা যাবে, তখনই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব হবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চায়। দক্ষিণ এশিয়ায় কানেক্টিভিটি বা আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। নতুন বছরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার মাধ্যমে আমরা আমাদের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ করতে পারি। তবে বিশ্ববাজারের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আমাদের কৌশলী হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমী মনোভাব বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার। ২০২৬ সালে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি আত্মনির্ভরশীল ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ২০২৬ সালের নববর্ষের আনন্দ উদ্যাপন কেবল আতশবাজি কিংবা ভোজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি জাতির পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি। নতুন বছরে আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সাফল্যগুলোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শান্তি ও অগ্রগতি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া যা অর্জন করতে হলে সরকার, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। ২০২৬ সাল হোক বৈষম্যহীনতার বছর, ২০২৬ সাল হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজয়ের বছর। আমাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ যখন জাতীয় সমৃদ্ধির স্রোতে মিশবে, তখনই বাংলাদেশ হবে সত্যিকারের সোনার বাংলা। আমাদের আকাঙ্ক্ষা যেন কেবল ব্যক্তিগত না হয়ে সমষ্টিগত হয়। নতুন বছরের আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক, প্রতিটি মানুষের জীবনে আসুক সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা। ২০২৬ সালে আমাদের একটাই শপথ—শান্তি, সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির পথে আমরা অবিচল থাকব। শুভ নববর্ষ ২০২৬। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক তার অদম্য সাহসিকতায়। লেখক: সমাজবিজ্ঞান ও উন্নয়ন বিষয়ক কলাম লেখক ও গবেষক। এইচআর/এএসএম