রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহে প্রায় তলানিতে নেমে যাওয়া দেশের নীট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। বিদায়ী বছরে রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এর আগে কখনও হয়নি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যেমন এই সঞ্চয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, তেমনি আমদানিতে ঋণপত্র কম থাকায় বাজার থেকে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে রিজার্ভে।বছরের শুরুতে শিক্ষা খরচ, এরপর রমজান ও ঈদ-এই সময়গুলোতে প্রবাসীরা নিজেরা উপস্থিত থাকতে না পারলেও নিজেদের পরিবার পরিজনের চলার পথ সহজ করতে অর্থ পাঠান। পরিবারের জন্য পাঠানো রেমিট্যান্সের টুকরো টুকরো অংশ জুড়ে নতুন বছরের জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ নিয়ে। গত বছরের ডিসেম্বরের ৩০ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ বিলিয়নের বেশি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২১ শতাংশের বেশি। আবার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশে। আরও পড়ুন: দেশের রিজার্ভে সুখবর, ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার ২০২৫ সালের শুরুতে দেশের রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বছরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসীরা যদি দ্রুত ও সহজ উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, তাহলে তারা ইনসেন্টিভের দিকে বেশি ঝুঁকবেন না। সে লক্ষ্যেই রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা যেন অর্থ পাঠাতে গিয়ে কোনো ধরনের আইনি বা প্রক্রিয়াগত জটিলতায় না পড়েন, সেজন্য নিয়ম-কানুন সহজ করা হবে। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এদিকে আমদানির চাপ কম থাকায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে সমপরিমাণ অর্থ বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।