ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই: পুতিন

নতুন বছরে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে চলমান যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধরত সেনাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই।২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে যা সর্বাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নেয়। এরপর প্রায় চার বছর ধরে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই মুহূর্তে একটি শান্তি আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বছরের প্রাক্কালে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশবাসী ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচার করা হয় তার ভাষণ। রাশিয়াকে ‘ফাদারল্যান্ড’ সম্বোধন করে সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির ওপর আস্থা নেই। পুরো দেশ এখন আপনাদের দিকে তাকিয়ে। আমরা জিতবই।’ ‘রাশিয়ার জনগণ সবসময় সেনাবাহিনীর সঙ্গেই রয়েছে’ জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, নববর্ষের সন্ধ্যায় দেশের কোটি কোটি মানুষ, আপনাদের সঙ্গেই রয়েছে। সবাই আপনাদের কথাই ভাবছে, আপনাদের জন্য দোয়া করছে। আমরা সবাই আপনাদের সমব্যথী। দেশের সমস্ত সেনা এবং কমান্ডারকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা। আপনারা ও আমরা জিতবই, এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’ আরও পড়ুন: বেলারুশে শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতির ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রাশিয়ার এই ভাষণের ঠিক আগেই পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানায়, ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঘেরা জঙ্গলের মধ্যে ড্রোন ভেঙে পড়ে রয়েছে। রুশ সেনার এক কর্মকর্তা আঞ্চলিক ভাষায় কিছু বর্ণনা করছেন। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোররাতে ইউক্রেন পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করে বলে অভিযোগ মস্কোর। রুশ কর্মকর্তারা জানান, মোট ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের কথায়, ‘সব ড্রোনই আমরা রুখে দিয়েছি।’ ইউক্রেন পুতিনের বাসভবনে হামলা চালানোর রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দাবি, শান্তি প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। ওই হামলার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতভর ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসায় ব্যাপক হামলা চালায় রুশ সেনারা। এতে আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবনে ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুন ধরে যায় বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্দরসংলগ্ন লজিস্টিকস ও জ্বালানি স্থাপনা। আরও পড়ুন: পুতিনের বাসভবনে হামলার অভিযোগ রাশিয়ার, ইউক্রেনের নাকচ ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, রুশ হামলায় শিশুসহ কয়েকজন বেসামরিক আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, এই হামলায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নৌপরিবহনও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ফ্রন্টে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সম্মুখ লড়াই চলছে। অভিযান চালিয়ে খারকিভ, জাপোরিঝঝিয়া ও দোনেৎস্কে নতুন বসতি দখলের দাবি করেছে মস্কো। কিয়েভের দাবি রুশ হামলায় চেরনিহিভ, খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কি বাহিনীর দাবি, তারা একদিনে ডজনের বেশি রুশ হামলা প্রতিহত করেছে। এদিকে বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি রাশিয়া।