শাসনব্যবস্থা থেকে অর্থনীতি, শিক্ষা থেকে নারীর ক্ষমতায়ন- সব ক্ষেত্রেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সংস্কারমূলক কার্যক্রম ইতিবাচক ছাপ ফেলেছে। তার প্রথম সরকারের উদারীকরণ নীতি পরবর্তীতে অর্থনীতির মজবুত ভিড় গড়ে দেয়। মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তিকে বিবেচনা করা হয় নারী শিক্ষার মাইলফলক হিসেবে।১৯৯১ সালে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ফিরলে দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। বেনজীর ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীও বিএনপি নেত্রী। ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ এই দুভাগে বেগম জিয়ার শাসনামলকে ভাগ করেন বিশ্লেষকরা। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার আগে সংসদে বসা কিংবা প্রশাসন পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না বেগম জিয়ার। প্রথমবার সরকারে এসে নারী অধিকার, শিক্ষাখাত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন তিনি। পরিবর্তন আসে শাসনব্যবস্থায়ও। তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তে সর্বসম্মতিক্রমে ফিরিয়ে আনা হয় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা। আরও পড়ুন: দুর্লভ ছবিতে গৃহবধূ থেকে সংগ্রামী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারিকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর মতো বেশ কিছু সংস্কার আসে আর্থিক খাতে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের মতো বেশ কিছু আইন, বিধি নীতিমালা প্রণয়ন হয় সে সরকারের সময়। যা ভূমিকা রাখে আর্থিক সুশাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠায়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তৈরি হয় নতুন রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল। অন্যদিকে, ছাত্রীদের বৃত্তি, দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠদান ভূমিকা রাখে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে। ১৯৯৬ সালের স্বল্পকালীন ৬ষ্ঠ সংসদে, আন্দোলনরত বিরোধী দলগুলোর দাবির মুখে পাস হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। আরও পড়ুন: ‘পুতুল’ থেকে প্রধানমন্ত্রী: যেমন ছিল বেগম জিয়ার ছোটবেলা ২০০১ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারো প্রধানমন্ত্রী হন বিএনপি চেয়ারপারসন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যাব গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা তার সরকারের অন্যতম সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কর্মসংস্থান বাড়ানো, অবকাঠামো খাতে অগ্রগতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিক্ষাক্ষেত্রে নকলমুক্ত পরীক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষায় পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ এ সরকারের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। এছাড়া যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ এবং নারী ও শিশু-পাচারের মতো অপরাধ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ছিল সে সরকার। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতেও ভূমিকা রাখে সরকারের নীতিকৌশল। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৩০টি থেকে ৪৫টিতে উন্নীত করা হয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন।