থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ও আজহারী

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের নামে গভীর রাতে আতশবাজি, পটকাবাজি করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া, পশুপাখি ও পরিবেশের ক্ষতি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ ও ড. মিজানুর রহমান আজহারী। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ফেসবুকে নিজের ফেরিফায়েড পেজে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘গভীর রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে সন্ত্রস্ত হবে শিশুরা, ছটফট করবে হার্টের রোগী ও পাখিরা—এ কেমন সভ্য সমাজ? এই অনাচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলতে হবে। অল্প কিছু অমানুষের কাছে গোটা দেশ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের নামে এই উশৃঙ্খলা আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক। এই অনাচার ও উশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে পাড়ায় মহল্লায় উদ্যোগ নেওয়া হোক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি আর ফানুস নামের ‘আগুন নিয়ে খেলা’ আর কবে বন্ধ হবে? এই রাতে বিবেকসম্পন্ন মানুষের পাশবিক উন্মাদনায় পাখিরা যদি আতঙ্কে ডানা ঝাপটায়, রাস্তার কুকুর যদি দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে ভয়ে, গরিবের মাথাগোঁজার আশ্রয় যদি ছাই হয় ফানুসের আগুনে, পটকার বিকট শব্দ যদি খালি করে মায়ের কোল, তবে মানুষ তোমার শ্রেষ্ঠত্ব রইল কোথায়!’ ড. মিজানুর রহমান আজহারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, `পটকা আর ফানুসের এই উন্মাদনা শুধু আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করছে না, ধীরে ধীরে আমাদের মানবিক সংবেদনশীলতাও নিঃশেষ করে দিচ্ছে। কয়েক টাকার ছোট্ট ফানুস হয়ে যাচ্ছে লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতির কারণ। কখনো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে যাচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা। এক রাতের সাময়িক উন্মাদনায় পটকা-বাজির বিকট শব্দ ঘনবসতিপূর্ণ এ শহরে কত-শত শিশুর আতঙ্ক, কত মায়ের বুক কাঁপানো দুশ্চিন্তা— আমরা কখনো ভেবে দেখেছি কি? উমায়েরের মতো শিশুদের কান্না, শত শত অসহায় অবলা প্রাণীর প্রাণ ভয়ে ছোটাছুটি আর পাখিদের নীরব মৃত্যু! উদযাপনের নামে এই উন্মাদনা কি সত্যিই মানবিকতার চেয়ে বড়?’ ওএফএফ