উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র ঘন কুয়াশায় পুরোপুরি জেঁকে বসেছে পৌষের কনকনে শীত। প্রায় জুবুথুবু অবস্থা শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি সহ আরও বেশ কয়েকটি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা জেলা মুন্সিগঞ্জে সারা দেশের মতোই চলছে তীব্র শীতের প্রকট। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ। সেইসঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে এ জনপদ। ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাস থাকায় খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না বাড়ি থেকে। গত কয়েকদিনে এই জেলায় ১২ থেকে ২৩ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে বলে জানা গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাকডাকা ভোরে চারিদিকে কুয়াশা আচ্ছন্ন সকালে আগুন জ্বেলে উষ্ণতার খোঁজে দুহাতে গরম তাপ নিচ্ছে ছোট শিশুরা। চারিদিকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকাতে শীতের প্রকট দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি। সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদনপুর সূত্রধর পাড়া এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণ উত্তাপ নেওয়া ছোট শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, তীব্র শীতে জুবুথুবু অবস্থা তৈরি হয়েছে শিশুদের জন্য। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বেশ কয়েকজন শিশু জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকটাই উচ্ছ্বাসিত তারা। শৈশবের দুরন্তপনা ও শীতকে ঘিরে বিভিন্ন খুনসুটি চলছে শিশুদের মাঝে। তবে তীব্র শীতে জেলা জুড়ে শিশু-কিশোরদের সর্দি, কাশি,জ্বর ঠান্ডা সহ শীতকালীন রোগের প্রকট বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করা সহ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার সাইদুর রহমান হিমেল বলেন, ‘শীত মৌসুমের ঠান্ডা তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে শিশুদের নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে তীব্র ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ার মত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন শিশুরা। অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।’ এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট সূত্রে মুন্সিগঞ্জ জেলা সম্পর্কে জানা গেছে, রাতের বেলায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে কম্বল সহ শীতের গরম কাপড় বিতরণ করতে দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যদের। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতায় শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও কম্বলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে নিম্নআয়ের হতদরিদ্র মানুষের জন্য। এরই মধ্যে সদর উপজেলার চরকেওয়ার, মোল্লাকান্দি, আধারা এবং শিলই ইউনিয়নে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ৪০০ টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ধারাবাহিকভাবে এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জাগো-নিউজকে জানিয়েছেন তিনি। আরও পড়ুনঠান্ডার আড়ালে নগরীর অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রকুয়াশার চাদরে ঢাকা ঘরহীন মানুষের গল্প শুভ ঘোষ/কেএসকে