বিলুপ্ত ছিটমহল এখন উন্নয়নের জনপদ, দৃশ্যপট বদলাল যেভাবে

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের জীবনমান। দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনা ও বন্দি জীবনের দুঃখ ঘোচানো মানুষগুলো কৃষিতে জীবনধারণ করলেও সুখে থাকার কথা জানান তারা। তবে বিলুপ্ত ছিটে বন্ধ থাকা আইসিটি সেন্টার চালুসহ বেকার সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।এ দিকে কৃষিতে প্রণোদনাসহ সার্বিক সহযোগীতায় পাশে থাকার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।সরেজমিনে প্রায় ৭ বর্গ মাইলের অধুনালুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে এ তথ্য জানা যায়।সূত্র জানায়, দাসিয়ারছড়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দেশের অভ্যন্তরে থাকা সবচেয়ে বড় এই ছিটমহলের মানুষের একমাত্র পেশা কৃষি। এই মানুষগুলো বন্দি জীবনে নানা সমস্যা নিয়ে কৃষি কাজ করলেও মুক্ত জীবনে কৃষি প্রণোদনাসহ সব সুবিধা ভোগ করছেন।দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটের মালিকানা ছিল ভারতের আর ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টির মালিকানা ছিল বাংলাদেশের। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিক বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে যুক্ত হয় ১১১টি আর ভারতে যুক্ত হয় ৫১টি ছিটমহল। এরপর বাংলাদেশের অধুনালুপ্ত ছিটবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে পাকা সড়ক, ব্রিজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করে সরকার। এতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে থাকেন তারা।আরও পড়ুন: ৯ বছরে পাল্টে গেছে কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর ভাগ্যবিলুপ্ত ছিটবাসীরা জানান, ছিট বিনিময়ের পর কৃষি প্রণোদনাসহ কৃষিপণ্য বাজারজাতের সব সুবিধা ভোগ করছেন তারা। আগের তুলনায় মিলেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও।কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, ছিটবাসীর জীবনমান উন্নয়নে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তার সবগুলো এখনও পূর্ণ হয়নি। আইসিটি ভবন করা হয়েছে কিন্তু কার্যক্রম চালু হয়নি। আমরা চাই আইসিটি ভবনের কার্যক্রম চালু হলে আমাদের সন্তানরা সেখানে ট্রেনিং নিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারবে।এ দিকে দীর্ঘ ৬৮ বছর বঞ্চনার শিকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১ ছিটমহলবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাসহ দেশের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছাড়াকে ইউনিয়ন করার দাবি ছিট বিনিময়ে আন্দোলন নেতার।আরও পড়ুন: ৬৮ বছরের বঞ্চনার জীবন পাল্টে গেল ৯ বছরে, কেমন আছেন ছিটমহলবাসী?বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা দেশের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন করার দাবি জানাচ্ছি।’কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষিতে শতভাগ প্রণোদনার মাধ্যমে ছিটবাসীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে।বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা রংপুর বিভাগের ১১১টি  অধুনালুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রামে-১২, লালমনিরহাটে-৫৯, পঞ্চগড়ে-৩৬ এবং নিলফামারী জেলায়-৪টি। এসব ছিটমহলের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার ৩৩৬ জন।