নেত্রকোনায় উৎসব না থাকলেও বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে উচ্ছ্বসিত আনন্দিত শিশুসহ শিক্ষকরাও।কুয়াশা ঢাকা সকালে নতুন বইয়ের আশায় বিদ্যালয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা হাতে বই পেয়ে আনন্দিত। শীতে শিক্ষার্থীদের খানিকটা বিড়ম্বনা হলেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণে ভুলে গেছে মুহূর্তেই। এবার রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বই বিতরণে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই জেলার সবকটি বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে শ্রেণিকক্ষ থেকে বই বিতরণ।সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ের প্রায় ৫শ’ শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে নতুন বই। সকালে উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তাদের নিয়ে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেছেন শিক্ষকরা।শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই সবগুলো বই হাতে পেয়েছেন তারা। ফলে শুরু থেকেই নতুন বইয়ের নতুন পাঠ্যসূচি শুরু হবে। তবে উৎসব না থাকায় কিছুটা নিরানন্দ হলেও নতুন বই তা কাটিয়ে দিয়েছে।দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অরধান শিক্ষক শামছুন্নাহার বেগম জানান, এবার শ্রেণিকক্ষে বই দেয়া হয়েছে। তবে প্রথম দিনে বই দিতে পেরে তারাও আনন্দিত। কারণ শিশুরা নতুন বই নিতে শীত উপেক্ষা করেই প্রতিবছর খুশিতে সকাল সকাল স্কুলে চলে আসে। এবারও তারা এসে গেছে। বই না পেলে কষ্ট পেতো।আরও পড়ুন: বছরের প্রথম দিনে রাজশাহীর স্কুলে নতুন বই বিতরণজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার ১৩১৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি সব মিলিয়ে চাহিদা ছিল ২০ লাখ ৯ হাজার ১৬৯ টি। উপজেলাওয়ারী চাহিদা অনুযায়ী কেন্দুয়া উপজেলায় ছিল ২ লাখ ১১ হাজার, আটপাড়ায় ৮৩ হাজার ২২০টি, সদরে ২ লাখ ৯১ হাজার ৬শ’, বারহাট্টায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮শ’, পুর্বধলায় ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭০০, দুর্গাপুরে ১ লাখ ২১ হাজার ২০০, কলমাকান্দায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০০, মদনে ৯ লাখ ৬ হাজার ৮০০, মোহনগঞ্জে ৯ লাখ ৭ হাজার ৩৬৭ ও খালিয়াজুরীতে ৬ লাখ ৮ হাজার ৭৮২টি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল আজম জানান, সবগুলোই সরবরাহ করা হয়েছে এবছর। শ্রেণিকক্ষে বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে।অপরদিক মাধ্যমিক সূত্র জানায়, জেলায় মোট চাহিদা ২৬ লাখ ৫ হাজার ৯ টি। সরবরাহ হয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার ২৬৫ টি। ইবতেদায়ী, দাখিল, মাধ্যমিক, ভোকেশনাল, ইংলিশ ভার্সনসহ মোট শিক্ষার্থী ২ লাখ ০০ হাজার ৭৭৩ জন। তাদের বিপরীতে চাহিদার ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪৪ টি বই কম এসেছে। আরও পড়ুন: শতভাগ বই পেয়েছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা: উপদেষ্টাজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পর্যায় ক্রমে সব বই পেয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা। তবে ইংলিশ ভার্সনের ৯৯০ টি চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি হয়নি প্রথম দিনে।