গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুর নামে থাকা অপরাধলব্ধ স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদালতে আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ও ২১ ধারার বিধান উল্লেখ করা হয়। আবেদনে বলা হয়, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন। ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করা হলে দেখা যায়, তিনি ১১ কোটি ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া দাখিল করা বিবরণীতে ৩ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৪ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। দুদকের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। পাশাপাশি অপরাধলব্ধ সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে একাধিক দোকান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রি এলাকায় জমি ও ভবন এবং পুরানা পল্টনে একটি বহুতল ভবনের একটি ফ্লোরসহ একাধিক স্থাবর সম্পদের মালিক। দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত এসব স্থাবর সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন— এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মামলা নিষ্পত্তির আগেই সম্পদ স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এসব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা জরুরি। আদালত দাখিল করা নথিপত্র ও যুক্তি বিবেচনা করে আবেদন মঞ্জুর করেন এবং উল্লিখিত স্থাবর সম্পত্তিগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও দোকান মালিক সমিতিগুলোকে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমডিএএ/এমএএইচ/জেআইএম