টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। লরেস্তান প্রদেশে সংঘর্ষে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফার্স প্রদেশের সংঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন। মুদ্রার দরপতনের জেরে চলমান বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই, নির্বাসিত ও স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ইরানের ফার্স প্রদেশে একটি সরকারি ভবনের ফটক ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে চলে ব্যাপক সংঘর্ষ। গণমাধ্যম বলছে, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়। পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, লরেন্স প্রদেশে নিজেদের এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরপতনের জেরে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পঞ্চম দিনের মত তেহরান, কারাজ, হামেদানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। এর আগে, আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ রেজা ফারজিন। পরে, অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আব্দুল নাসের হেম্মাতিকে। আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ঐক্যের ডাক পেজেশকিয়ানের এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই, আগুনে ঘি ঢালেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভি। নতুন বছরের এক বার্তায় আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চান তিনি। এমন অবস্থায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আন্দোলনের পেছনে বিদেশি চাপকে দায়ী করেন তিনি। নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। পেজেশকিয়ান বলেছেন, আমরা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যুক্ত। এই মুহূর্তে শত্রু মূলত অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই আমাদের ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছে। বোমা, যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো জাতিকে পরাজিত করা যায় না। আমাদের পরাস্ত করতে হলে তাদের ময়দানে নেমে মুখোমুখি হতে হবে। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারে অবিচল থাকি, তাহলে ইরানকে কখনোই হাঁটু গেড়ে বসাতে পারবে না। গেল রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। এরপরই বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন নাগরিকরা।