নীল জলরাশিতে ২০২৬ বরণ: মুগ্ধতা আর নতুন প্রত্যাশায় পর্যটকরা

ইংরেজি নতুন বছর ২০২৬। নতুন বছরের প্রথম দিনে নীল জলরাশিতে আনন্দে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা। আনন্দ আর উল্লাসে নতুন বছরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। নতুন স্পন্দন, নতুন আশা আর নতুন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে শুরু হলো আরেকটি বছর।বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। কে না চায় বছরের প্রথম দিনটা এমন নীল জলরাশির পাশে কাটাতে! তাই ২০২৬ সালের প্রথম ভোরেই আনন্দ আর প্রত্যাশা নিয়ে সৈকতে ভিড় করেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। শীতের সকাল, সঙ্গে হালকা ঠান্ডা হাওয়া। চারপাশ জুড়ে শুধু নীল আর নীল। এই নীলের মাঝেই আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা। তাদের প্রত্যাশা নতুন বছরের শুরুটা যদি এমন আনন্দে হয়, তাহলে পুরো বছরটাই কাটবে হাসি আর সুখে। ভ্রমণে আসা পর্যটক আশিকুর রহমান বলেন, ‘বছরের প্রথম দিনটি পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারে কাটাতে পেরে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। সমুদ্রের গর্জন আর পরিবেশটা মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব ভালো লেগেছে।’ আরেক পর্যটক সায়রা রহমান বলেন, ‘আমরা আগেই পরিকল্পনা করেছিলাম বছরের প্রথম দিনটা সমুদ্রে কাটাবো। তাই মেয়েদের নিয়ে এখানে আসা। আমার মেয়েরা খুব খুশি, অনেক উপভোগ করছে। মেয়েরা খুশি থাকলে আমরাও খুশি, সব মিলিয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে।’ আরও পড়ুন: সাগরতীরে ২০২৫ সালের শেষ আলো ছড়াল সূর্য পর্যটক সায়ীদ আলমগীর বলেন, ‘বছরের প্রথম দিনটি আনন্দের সঙ্গে কাটানোর উদ্দেশ্যেই এখানে আসা। নতুন বছরটা নতুনভাবে, ভালোভাবে শুরু করার জন্য সাগরপাড়ে আসা। এখানে এসে সত্যিই ভালো লাগছে।’ পর্যটক লায়লা হক বলেন, ‘২০২৬ সালের শুরুটা কক্সবাজারে কাটাতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে এমন সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ আবু তৈয়ব নামের এক পর্যটক বলেন, ‘বছরের প্রথম দিন হিসেবে সময়টা খুব ভালো কেটেছে। পরিবেশটা সুন্দর ছিল, আবহাওয়াও বেশ ভালো ছিল। সবকিছু মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ। নতুন বছরটা যেন সবার জন্য ভালো কাটে এটাই আমার প্রত্যাশা।’ জার্মানি প্রবাসী পর্যটক শহীদুল আলম বলেন, ‘আমরা সবাই জার্মানি থেকে এসেছি। বছরের প্রথম দিন কক্সবাজারে এসে খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে এখানকার আবহাওয়া আমাদের খুব ভালো লেগেছে, কারণ আমাদের দেশে এখন অনেক ঠান্ডা।’  সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ শোকাবহ। তার ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে কারণেই গেলো বছরের তুলনায় এবছর পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবুও হতাশ নন সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরা। বার্মিজ পণ্যের দোকানদার কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসা বর্তমানে খুব একটা খারাপ অবস্থায় নেই। মোটামুটি ভালোভাবেই চলছে। তবে আরও ভালো হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করছি, আসন্ন নির্বাচনের পর ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে। সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘সাধারণত হ্যাপি নিউ ইয়ার উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমরা বড় ধরনের আয়োজন করে থাকি। তবে সাম্প্রতিক একটি রাষ্ট্রীয় ঘটনার কারণে এবার সেই আয়োজন কিছুটা সীমিত ছিল। পর্যটকের সংখ্যা একেবারে কম ছিল না, মোটামুটি ভালোই ছিল। তারপরও প্রায় ২০ শতাংশ রুম খালি থেকে গেছে। শুধু আমাদের নয়, অনেক হোটেলেই একই অবস্থা দেখা গেছে। তবে আজ থেকে আবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী, এতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ আরও পড়ুন: মিয়ানমারে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে ভূমিকম্পের মতো কাঁপল কক্সবাজার এদিকে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা। সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর কক্সবাজারে একাধিক দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আপনারা সবাই অবগত। অনেক পর্যটক সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। সিআইপি বিসিএস লাইফ গার্ডের পক্ষ থেকে আমাদের লক্ষ্য হলো চলতি বছরে যেন কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই বছরটি ‘জিরো ড্রাউনিং’ হিসেবে পার করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজারে আগত সকল পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমরা বিশেষভাবে লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্ট এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছি।’ শুধু কক্সবাজার নয়, নতুন বছরের নতুন সূর্য দেখতে পর্যটকদের ভিড় ছিল প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনেও।