নতুন বছরের শুরুতেই ঢাকার আদালত পাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কর্মব্যস্ততার মাঝে আগ্রহে রয়েছে নতুন বছরের ‘অ্যাডভোকেট ডায়েরি’ সংগ্রহ। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের ফুটপাতসহ পুরো আদালত পাড়ায় বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন রঙের ও মানের লিগ্যাল ডায়েরি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা বার কাউন্সিল এবং জজ কোর্ট এলাকার স্টলগুলোতে সকাল থেকেই আইনজীবীদের ভিড় লেগে আছে। বিক্রেতারা আশা করছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই এই কেনাবেচার ধুম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালত পাড়ায় এই ডায়েরি কেনাবেচার ধুম প্রমাণ করে যে, সনাতনী এই পেশাদার রীতি এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আদালত পাড়ায় বিক্রি হচ্ছে ডায়েরি-ছবি জাগো নিউজ ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ের সামনে ডায়েরি বিক্রি করছিলেন শহিদুল্লাহ ইসলাম। বিক্রির ব্যস্ততার মাঝেই জাগো নিউজকে বলেন, বছরের শুরুতেই আইনজীবীদের প্রধান আগ্রহ থাকে একটি মানসম্মত ডায়েরি সংগ্রহ করা। এটা এখন প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা আমাদের আদালত পাড়ার ঐতিহ্য ও রীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানালেন ডায়েরির দাম। মান ও কাগজভেদে একেকটি ডায়েরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কিছু ডায়েরির দাম আরও কিছুটা বেশি। সাধারণগুলো ২০০ টাকার মধ্যেও মিলবে। আরও পড়ুননতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়গুগল ডুডলে বর্ষবরণ ডায়েরিগুলো হাতে নিয়ে দেখছেন অনেকেই-ছবি জাগো নিউজ ডিজিটাল যুগেও কমেনি আবেদন আদালত প্রাঙ্গণে ডায়েরি কিনছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এখন প্রযুক্তির যুগ, মোবাইলে অনেক কিছু সেভ রাখা যায়। কিন্তু একজন আইনজীবীর কাছে তার কোর্ট ডায়েরি বা লিগ্যাল ডায়েরি অনেকটা আর্কাইভের মতো। প্রতিদিনের মামলার সিরিয়াল, পরবর্তী তারিখ এবং ক্লায়েন্টের তথ্য হাতে লিখে রাখার যে তৃপ্তি ও সুবিধা, তা অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না। ডায়েরিতে যা থাকে আইনজীবী ও বিক্রেতারা জানান ডায়েরিগুলোর নানা বৈশিষ্ট্য ও কেন এগুলোতে আগ্রহ। তাদের মতে, এসব ডায়েরিতে কেবল তারিখ ও পাতা থাকে না। এতে গুরুত্বপূর্ণ লিগ্যাল রেফারেন্স, সরকারি ছুটির তালিকা, আদালতের সময়সূচি এবং বিভিন্ন আইনগত তথ্যের সংক্ষিপ্ত সংকলন থাকে। ফলে এটি নবীন থেকে প্রবীণ সব আইনজীবীর জন্যই সারাবছরের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। ডায়েরি কেনার এই সংস্কৃতি নিয়ে কথা হয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, একজন আইনজীবীর পেশাদারত্বের প্রতিফলন ঘটে তার নথিপত্র সংরক্ষণের ধরনে। ডায়েরি মেইনটেইন করা কেবল একটি অভ্যাসের পাশাপাশি এটি আইনি প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছাত্রাবস্থা থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের এই সিস্টেমিক নোট নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করি। এমডিএএ/এসএইচএস/এমএফএ/জেআইএম