জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমমনা দলগুলো নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোট কোনো ‘ইসলামি জোট’ নয় বলে মনে করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ ১০১ জন বিশিষ্ট আলেম। এই নির্বাচনি সমঝোতাকে ‘ইসলামি জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাহদী হাসানের পাঠানো দেশের শীর্ষ আলেমদের বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, ইমান ও আকিদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনি সমঝোতার নামে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামি জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ইমান ও আকিদা সর্বাগ্রে। ইসলামি জোটের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে সাধারণ মুসলমান ও তাওহিদি জনতাকে ইসলামি জোট মনে করে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তথাকথিত এই নির্বাচনি সমঝোতাকে ‘ইসলামি জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, যারা ইসমতে আম্বিয়া স্বীকার করে না এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া মূলত ইসলামি চিন্তা-চেতনার সুস্পষ্ট খেলাফ। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না। অতএব, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা মোটেও সমীচীন নয়। প্রথমত, কোনো রাজনৈতিক জোটের নামের সঙ্গে ইসলাম বা ইসলামি শব্দ যুক্ত হলেই তা শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাজনৈতিক জোট হয়ে যায় না। ইসলামি রাজনৈতিক জোটের মৌলিক পরিচয় হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, কোরআন ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহিনের মানহাজ অনুসরণ এবং দ্বীনবিরোধী সব ধরনের আপস থেকে পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, দেওবন্দী আকিদা ও মানহাজে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার পরিপন্থি চিন্তা-চেতনা, মতাদর্শ ও দর্শন লালনকারী কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য গঠন করতে পারে না। এ ধরনের ঐক্য আকিদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয় এবং দ্বীনের মৌলিক অবস্থানকে দুর্বল করে। আরও পড়ুনসামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেবে না জামায়াত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচনের পর কী হবে তৃতীয়ত, ইসলামি রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতা অর্জনের কৌশল হতে পারে না। বরং তা হতে হবে দ্বীন রক্ষা, শরিয়াতের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, বাতিল চিন্তাধারার মোকাবিলা এবং উম্মাহর ঈমান ও আকিদা সংরক্ষণের একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম। আকিদাগত প্রশ্নে আপস করে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামী রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী বলা যায় না। বিবৃতিতে ১০১ আলেম বলেন, সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, উক্ত সমমনা ইসলামি জোটকে আমরা ইসলামি রাজনৈতিক জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেই না। পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলেম-উলামা, দ্বীনি সংগঠনসমূহ এবং সচেতন মুসলিম জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিদাতা আলেমদের মধ্যে রয়েছেন- আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক, আল্লামা খলিল আহমাদ কুরাইশী, আল্লামা আব্দুল আউয়াল, শায়েখ জিয়াউদ্দিন, শায়েখ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, আল্লামা আব্দুল হামিদ, আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, আল্লামা শেখ আহমদ, মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আবু তাহের নদবী, মাওলানা মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, শাইখুল হাদীস আবুল হাসান আলাউদ্দীন, মাওলানা আব্দুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলানা ইউনুছ আহমদ, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা নুরুল হক বট্টগ্রাম, শায়েখ আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী কানাইঘাট। আরও রয়েছেন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা রশিদ আহমদ শাব্বির, মাওলানা আনাস, শায়েখ মাশুক উদ্দিন, মাওলানা মহিউল ইসলাম বুরহান, মাওলানা মুস্তাক আহমাদ, মাওলানা আনওয়ারুল করীম, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মাসউদুল করীম, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা আব্দুল বছির, মাওলানা নিজামুদ্দীন, মাওলানা আবুল বাসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা শামসুদ্দীন, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী, মাওলানা কামরুজ্জামান, মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, মাওলানা আহমদ মায়মুন, মাওলানা যাইনুল আবিদীন, মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা মফিজুর রহমান, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা মাসরুরুল হক, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী, মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী। মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা এমদাদুল্লাহ শায়খে কাতিয়া, মাওলানা ড. শুয়াইব আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মাওলানা তাহের কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা জাবের তাজাল্লা, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি আরিফ বিল্লাহ কাসেমী, মুফতি হোসাইন বিন ওয়াক্কাস, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী, মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, মাওলানা কাজী জাবের কাসেমী তাজাল্লা, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি আনওয়ারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, মুফতি আলমগীর, মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়জী, মুফতি রিদওয়ান রফিকী, মুফতি আব্দুল জব্বার কাসেমী, মুফতি শফি কাসেমী, মাওলানা মতিউর রহমান, মাওলানা শরীফ, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা হোসাইন আহমাদ ইসহাকী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা মাসরুর আহমাদ, মাওলানা হারুন, মাওলানা শামসুল ইসলাম আরেফিন খান সাদী, মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাওলানা হাকিম নুরুজ্জামান। আরএএস/কেএমআর