ভোটের দ্বারপ্রান্তে দেশ, ২০২৬ সালে স্বস্তি ফিরবে আইনশৃঙ্খলায়?

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম উদ্বেগজনক ছিল ২০২৫ সাল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানান সময় প্রশ্ন উঠেছে। এসময়ে সারাদেশে মব ভায়োলেন্স, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটে, যা জনজীবনে নিয়ে আসে আতঙ্ক, অনিরাপত্তা আর উৎকণ্ঠা। এসব ঘটনায় শুধু সাধারণ মানুষই নয়, অনেক ক্ষেত্রে হামলার শিকার হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। পুলিশের চোখের সামনে যেমন অনেক মব হামলার ঘটনা ঘটেছে, আবার অনেক ঘটনায় খোদ পুলিশকেও পালাতে দেখা গেছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ছিল একেবারেই নড়বড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একের পর এক এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো দেখে দেশের মানুষ অভ্যস্ত নয়। ফলে নগর থেকে গ্রাম—কোথাও কেউ নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ ভাবতে পারেনি। এমনই এক কঠিন বাস্তবতায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের পর কি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি হবে, নাকি সহিংসতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে? নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করবে চারটি বিষয়ের ওপর—নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা ও বিচারহীনতা রোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি।—বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করবে চারটি বিষয়ের ওপর—নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা ও বিচারহীনতা রোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি। এ চারটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে ২০২৫ সালের সহিংসতার ছায়া ২০২৬ সালেও থেকে যেতে পারে। ২০২৫ সালে কেন আইনশৃঙ্খলা নাজুক ছিল বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালে অপরাধ বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অসহিষ্ণুতা অপরাধ প্রবণতা উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি আস্থাহীনতা মব জাস্টিসের মতো ভয়ঙ্কর প্রবণতা শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ছিনতাই ও সহিংস অপরাধ বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, পুলিশ বাহিনীর হারানো মনোবল এখনো সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসেনি। সবখানে তারা সক্রিয় নয়। পুলিশের উপস্থিতি এখন সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে না। কখনো পুলিশ নীরব থাকে। আবার কখনো এতটাই সক্রিয় হয়ে ওঠে যে তাদের বেসামাল মনে হয়। এমন পরিস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা সুযোগ খোঁজে। সুযোগ তৈরি করে নিতে পারলেই জন্ম দেয় অরাজকতার। আরও পড়ুনমিরপুরে ৭ মাসে ১৬২০ মামলা, বেড়েছে মাদক-চুরি-নারী নির্যাতন২০২৫ সালে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন-চুরি-খুন-অপহরণজেল পালানো ৭ শতাধিক আসামি এখনো অধরা, ‘ভোটের নিরাপত্তায়’ হুমকি ২০২৫ সালের আলোচিত ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ড, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা আগের বছরের (২০২৪ সাল) তুলনায় বেড়েছে। ১১ মাসে খুনের ঘটনায় মামলা২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০ জন, মার্চে ৩১৬ জন, এপ্রিলে ৩৩৬ জন, মে মাসে ৩৪১ জন, জুনে ৩৪৪ জন, জুলাইয়ে ৩৬২ জন, আগস্টে ৩২১ জন, সেপ্টেম্বরে ২৯৭ জন, অক্টোবরে ৩১৯ জন এবং নভেম্বরে ২৭৯ জন খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অর্থাৎ ১১ মাসে তিন হাজার ৫০৯টি হত্যা মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) দেশে রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছেন ৯৮ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসের চেয়ে ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ২৮১টি বেশি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা মামলা রুজু করতে পারেননি তাদের কিছু মামলা ৫ আগস্টের পর নেওয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ১১ মাসে দেশে রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছেন ৯৮ জন। বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা২০২৫ সালের মার্চে মাগুরা সদর উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। রমজানে তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করে, ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাজপথে চলে আন্দোলন-সমাবেশ। পরে চার আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এটি বছরের শুরুতে ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। এরপরও থেমে থাকেনি ধর্ষণের ঘটনা। ৮ মার্চ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। একই রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন মেয়ের সৎবাবা। নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক ১০ মার্চ রাঙ্গামাটি জেলা শহরে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুভাষ কুমার চাকমা (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ১০ মার্চ বিকেলে ১৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। পুরান ঢাকায় পাথর মেরে ব্যবসায়ীকে হত্যারাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। হত্যার আগে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করা হয়। তার শরীরের ওপর ওঠে লাফায় কেউ কেউ। ওই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ একদিন পর ভাইরাল হলে দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরব হয় সবাই। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল সে সময়ে। গুলি করে ১৬০ ভরি সোনা ছিনতাইচলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনাগুলোর একটি। দুর্বৃত্তরা এক-দুটি নয়, পর পর চার রাউন্ড গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে সোনা নিয়ে যায়। এ ঘটনার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা। তাদের বেশিরভাগের মন্তব্য—‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যর্থ, তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’ এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাগত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দিনদুপুরে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বছরের শেষ দিকে সবচেয়ে আলোচিত এ ঘটনায় উৎকণ্ঠা বাড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সম্ভাব্য প্রার্থী হাদি যখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন ঠিক তখনই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই তাকে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় অন্য প্রার্থীদের মনেও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হাদিকে গুলি করে একদিন পরই শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। নির্বাচন-পূর্ব চাপ ও আইনশৃঙ্খলানির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় অংশ ব্যস্ত থাকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ফলে নিয়মিত অপরাধ দমনে নজর কিছুটা শিথিল হয়—যার সুযোগ নেয় অপরাধী চক্র। এছাড়া নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ভাঙচুর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। নির্বাচন শেষে উন্নতির সম্ভাবনা কোথায়?নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার কয়েকটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে: ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে আন্দোলন, সহিংস কর্মসূচি কমে আসার সম্ভাবনা থাকে, যা স্বাভাবিক জীবনে স্বস্তি ফেরাতে পারে। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা: নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে সিদ্ধান্তহীনতা কমে আসতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মনোযোগ দিতে পারবে। অপরাধ দমনে মনোযোগ বৃদ্ধি: নির্বাচনি দায়িত্ব শেষ হলে পুলিশ ও অন্য বাহিনীগুলো হত্যা, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে নামতে পারে। আরও পড়ুন‘বডি কন্ট্রাক্টে’ মানবপাচার, গোয়েন্দা তথ্যে দুই কর্মকর্তার নাম‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট করাই পুলিশের ‘মাথাব্যথা’দুবাই থেকে ফিরেই কিবরিয়া হত্যার ছক কষেন ‌‌‘পাতা সোহেল’ সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা স্বয়ংক্রিয় নয়। ২০২৫ সালের সহিংস অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু রাজনৈতিক স্থিতি নয়, প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, অপরাধ সংগঠনের দিক থেকে ২০২৫ সাল ছিল একটি আলোচিত বছর। নতুন বছর ২০২৬ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। একই সঙ্গে অধিকতর গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা জনবান্ধব ও দেশের স্বার্থনির্ভর—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ড. তৌহিদুল মনে করেন, প্রত্যেক পক্ষের কার্যকর ও দায়িত্বশীল আচরণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব বিষয় অনেকটাই ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনীয় পূর্বধাপগুলো অনুসরণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠার পাশাপাশি অস্থিরতার আশঙ্কাও থেকে যায়। ‘রাজনৈতিক দলভিত্তিক সরকার গঠনের পর সাধারণত স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি স্থিতিশীলতা তৈরি হয়, যা অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে। এসময় দেশের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর যোগাযোগও গড়ে ওঠে। তবে এসবের জন্য নির্বাচন আচরণবিধি ও নির্বাচনী শিষ্টাচার মেনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’—যোগ করেন তিনি। টিটি/এমকেআর/এমএমএআর/এমএফএ/জেআইএম