বিএনপি কার্যালয়ে শোকাবহ পরিবেশ, তারেক রহমানকে বিভিন্ন মহলের সমবেদনা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে দলটির গুলশান ও নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুই কার্যালয়েই জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং উত্তোলন করা হয় কালো পতাকা। দিনভর চলে দোয়া ও মাহফিল।সরেজমিনে দেখা যায়, দুই কার্যালয়েই খোলা শোক বইতে স্বাক্ষর করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাদ যাননি ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও। শোক বইয়ে স্বাক্ষরকালে তারা খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার নানা সাফল্যের স্মৃতিচারণ করেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অনেকে। তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দেশে সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি, তবে আমরাও একই সম্মান পাব।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু যখন অনুমতি দেয়া হলো ততদিনে তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।’ তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম ও লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু দেশ ছেড়ে যাননি।’ আরও পড়ুন: নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো দেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে: তারেক রহমান তিনি বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, সে সময় তার চলে যাওয়ায় মানুষ মর্মাহত হয়েছে। এ কারণে দেশনেত্রীর জানাজায় সবাই সমবেত হয়েছেন, চোখের পানি ফেলেছেন। তারা জানাজায় এই আশা নিয়ে গেছেন তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য কর্তব্য পালন করবেন।’ তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে রয়েছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন ও ভূষিত হয়েছেন।’ জানাজায় জনসমাগমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন। যারা আসতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কত মানুষ জানাজায় শরিক হয়েছেন তার কোনো সীমারেখা বা পরিসংখ্যান নেই। ভবিষ্যতে হয়তো অনুমাননির্ভর একটি তথ্য দেয়া যেতে পারে।’ সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘পৃথিবীর মানুষ বিশ্বাস করেছে, গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক ও দৃষ্টান্ত হতে পারেন। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে নিজের জীবন, সন্তান, পরিবার সবকিছু তিনি ত্যাগ করেছেন।’ বিকেলে তারেক রহমানকে সহমর্মিতা জানাতে একে একে গুলশান কার্যালয়ে আসেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা গুলশান কার্যালয়ে এসে তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।