মালয়েশিয়ায় গভীর সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে এলো বিশালাকৃতির এক রহস্যময় বস্তু। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি মহাকাশ থেকে ছিটকে পড়া কোনো যান বা রকেটের ধ্বংসাবশেষ। মালয়েশিয়ার পেকান জেলার নেনাসি উপকূলের কামপুং তানজুং সমুদ্রসৈকতে বস্তুটি পাওয়া যায়, যা বর্তমানে গোটা এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও রহস্যের সৃষ্টি করেছে।গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সৈকতে হাঁটতে গিয়ে প্রথম ওই বস্তুটি দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পেকান জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ জাইদি মাত জিন জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয়রা বস্তুটি দেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বস্তুটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় সমুদ্রের তলদেশে থাকার পর সম্প্রতি প্রবল ঢেউয়ের কারণে তা তীরের কাছে ভেসে আসে। উদ্ধারকৃত রহস্যময় বস্তুটির বিশালত্ব সবাইকে অবাক করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.২৬ মিটার (১৪ ফুট) এবং প্রস্থ প্রায় ৩.৬৪ মিটার (১২ ফুট)। এটির ওজন কয়েকশ’ কেজি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান পবিত্র কাবা! বস্তুটির গায়ে প্রচুর পরিমাণ সামুদ্রিক শামুক ও ঝিনুক আটকে থাকতে দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় এটি দীর্ঘকাল সমুদ্রের নোনা পানিতে নিমজ্জিত ছিল। দীর্ঘ সংঘর্ষ বা পানির চাপে বস্তুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ধাতব কাঠামো এখনো বেশ মজবুত রয়েছে। মহাকাশ থেকে পড়া বস্তু হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে বুধবার মালয়েশিয়া পরমাণু শক্তি বিভাগ দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। তারা নিশ্চিত করেছে, এই ধ্বংসাবশেষ থেকে কোনো ক্ষতিকারক রেডিয়েশন ছড়াচ্ছে না এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। বর্তমানে রহস্যময় এই বস্তুটি নিরাপত্তার খাতিরে নেনাসি থানায় রাখা হয়েছে। থানার চারপাশে বিশেষ সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে যাতে উৎসুক জনতা কোনো ক্ষতি করতে না পারে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয় এখন খতিয়ে দেখছে এটি ঠিক কোন দেশের বা কোন মহাকাশযানের অংশ।