শুল্ক কমতেই বন্দরে খালাস শুরু, রমজানে প্রভাব পড়বে কি খেজুরের দামে?

শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর অবশেষে বন্দর থেকে আমদানি করা খেজুর ডেলিভারি নিতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত ছয় মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন খেজুর খালাস নেয়া হয়েছে। আসন্ন রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে প্রকারভেদে প্রতি কেজি খেজুরের দাম ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই ডেলিভারি নেয়া হয়েছে ১৪৯ কোটি টাকা মূল্যের ৭ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন অভিজাত মানের খেজুর এবং ১৪ কোটি টাকা মূল্যের ৬২০ মেট্রিক টন সাধারণ খেজুর। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার খেজুরের আমদানি শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনায় ব্যবসায়ীরা এখন আগের তুলনায় দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারছেন। শুল্ক কমার পর থেকেই বন্দরে আটকে থাকা খেজুরের ডেলিভারি বেড়েছে, ফলে বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আরও পড়ুন: খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমালো সরকার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. শওকত হোসেন বলেন, খেজুরের ওপর শুল্ক কমানোর ফলে আমদানি বাড়তে পারে এবং বাজারে দাম কিছুটা সহনীয় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্কহার ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এদিকে প্রতিবছরই পবিত্র রমজান ঘিরে খেজুরের দামে কারসাজির অভিযোগ ওঠে। এবারও একই আশঙ্কা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির মুখে সরকার শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিদ্ধান্তটি এসেছে অনেক দেরিতে। ফলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে খেজুর খালাস করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ডেমারেজ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে খেজুরে তেমন শুল্ক ছিল না। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানিকৃত খেজুরকে বিলাসবহুল পণ্য ঘোষণা করে শুল্কহার এক থেকে ৩ মার্কিন ডলার বাড়ানো হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরও রমজানের আগে শুল্ক কমাতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগস্ট মাসেই শুল্ক কমানোর দাবি জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, আগস্ট মাসে আরব দেশগুলোতে খেজুরের উৎপাদন বেশি হয় এবং তখনই দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ খেজুর আমদানি হয়। সে কারণে তখনই শুল্ক কমানো জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার ডিসেম্বরে এসে শুল্ক কমিয়েছে, যা অনেকটাই দেরিতে। এদিকে শুল্কহার কমানোর প্রতিক্রিয়া পড়তে শুরু করেছে খেজুরের বাজারে। গত এক সপ্তাহে ৫ কেজির প্যাকেট আম্বর ও মরিয়ম খেজুরের দাম ২ হাজার টাকা কমে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৪ হাজার টাকায় নেমেছে। আজোয়া খেজুরে কেজিতে কমেছে প্রায় ১ হাজার টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়। মাশরুকে ৫০০ টাকা, সাবেরিতে ৭০০ টাকা এবং আলজেরিয়ান খেজুরে ২০০ টাকা কমেছে। তবে এখনো বিপুল পরিমাণ খেজুর চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও পড়ুন: সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে কী হয়? চট্টগ্রাম ফলমন্ডির মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ আলম বলেন, ‘যদি ১৫ দিন আগেই শুল্ক কমানো হতো, তাহলে আমরা আগেই পণ্য খালাস করতে পারতাম। এখন ডেমারেজ যে পরিমাণ গুনতে হচ্ছে, তাতে শুল্ক কমানোর সুফল অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই ইফতারের জন্য প্রয়োজন হয় ৮০ থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর। দেশে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্ডান, ইরাক, ইরান ও তিউনিশিয়া থেকে দেশে খেজুর আমদানি করা হয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই আমদানি হয়েছিল ৮১ হাজার ৯২২ মেট্রিক টন খেজুর।