কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

রাজধানীতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার দাপট। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় ঢাকা। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। কুয়াশার কারণে প্রতিবেদন লেখার সময় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। শীত ও কুয়াশার এই দাপটে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর জনজীবন। ছুটির দিন হওয়ায় অন্য দিনের তুলনায় রাস্তায় মানুষের চলাচল কিছুটা কম থাকলেও যাদের বের হতে হয়েছে, তাদের জন্য শীত সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিক গরম পোশাক পরেও কনকনে ঠান্ডায় কাঁপুনি থামছে না অনেকের। আরও পড়ুন: হাড়কাঁপানো শীতেও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকের জন্য এই শীত আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ছবি: সময় সংবাদ পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে দরকারি কাজে বের হয়েছি। এত ঠান্ডা যে শরীর কাঁপে। কুয়াশার কারণে সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না, চলাচল করাই কষ্টকর। রিকশাচালক রহিম মিয়া জানান, সকালে যাত্রী কম। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তবু পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে হয়। এই শীতে কাজ করা খুব কষ্টের। শীতের প্রভাব পড়েছে খুচরা ব্যবসাতেও। রাস্তার পাশে চা-সিগারেটের দোকান চালানো সালাউদ্দিন বলেন, সকালে ঠান্ডার কারণে মানুষ বের হয় কম। চা বিক্রি একটু বাড়ে, কিন্তু বসে থাকা কষ্টকর। হাত-পা জমে যায়, কিন্তু দোকান বন্ধ করলে তো চলবে না। ছবি: সময় সংবাদ অনেক জায়গায় যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে রাস্তায় বের হওয়া চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে গাড়ি। জোয়ার সাহারা রেইলগেট এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন শাদরুল আবেদীন জীম মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী বলেন, মোটরসাইকেলে শীতটা আরও বেশি লাগে। গ্লাভস, জ্যাকেট সব পরেও ঠান্ডা সামলানো যাচ্ছে না। কুয়াশার কারণে সামনে দেখা যায় না, দুর্ঘটনার ভয় থাকে সব সময়। আরও পড়ুন: কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রাজধানীবাসী। এদিকে, আগামী সোমবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে তীব্র শীত অনুভূত হলেও কোনো শৈত্যপ্রবাহ ছিল না। আগামী সপ্তাহের মাঝ থেকে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তবে ১৭টি জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহ প্রবণ জেলাগুলো হলো-  মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলবীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার উপর দিয়ে মুদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে।