জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বছরে আয় সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি। তার আয়ের একমাত্র উৎস ব্যবসা। স্থাবর–অস্থাবর যেসব সম্পদ আছে, তার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মিয়া গোলাম পরওয়ারের জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।তিনি গত ২৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ইসি তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করেছে।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। ৬৭ বছর বয়সী মিয়া গোলাম পরওয়ারের জন্ম খুলনার ফুলতলা উপজেলায়।গোলাম পরওয়ার হলফনামায় বলেছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমকম (অ্যাকাউন্টিং)। বর্তমান পেশা ব্যবসা, সাবেক পেশা শিক্ষকতা। তার স্ত্রী কামরুন্নাহার সালমা গৃহিণী। তার স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি সোনাসহ যে অস্থাবর সম্পদ আছে, তার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়। তার স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।আয়ের উৎসহলফনামা অনুযায়ী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আয়ের একমাত্র উৎস ব্যবসা। ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বছরে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৩৩০ টাকা। হলফনামায় মা ফাতেমা বেগম ও স্ত্রী কামরুন্নাহার সালমার পেশা গৃহিণী এবং ছেলে আহম্মাদ আতাউল্লাহ সালমানের পেশা ছাত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অস্থাবর সম্পদঅস্থাবর সম্পদের মধ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নগদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা জমা থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১৫ লাখ ৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। তিনি এসবের বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন আনুমানিক ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। এ ছাড়া স্ত্রীর কাছে নগদ ২ হাজার ৬৭৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৩৪৫ টাকা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: তফসিলের পরও কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে: গোলাম পরওয়ারহলফনামায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্ত্রীর ১৫ ভরি সোনা থাকার কথা বলা হয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ছিল ৪৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারির স্ত্রীর কাছে অর্জনকালীন ৫২ হাজার ২০ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা।স্থাবর সম্পদমিয়া গোলাম পরওয়ারের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি ও ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।মামলার বিবরণমিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিরুদ্ধে হওয়া ৪৮টি ফৌজদারি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২টি, খুলনায় ১৫টি ও নারায়ণগঞ্জে ১টি মামলা হয়েছিল।মামলাগুলো ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে করা হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বাধিক ২০টি মামলা হয়েছে ২০১২ সালে। ২০১৭ সালে সাতটি ও ২০১৮, ২০২১ ও ২০২৪ সালে চারটি করে মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।হলফনামা অনুযায়ী মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে সব মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় ফৌজদারি মামলা নেই। তার মামলাগুলোর মধ্যে ১টি বাতিল, ৩৮টি খালাস ও ৯টি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।আয়করহলফনামায় মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেছেন, তিনি চলতি বছর ৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৮ টাকা আয় করে ৫ হাজার ৬২৫ টাকা কর পরিশোধ করেছেন। দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী জামায়াতের সেক্রেটারি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।হলফনামার অন্যান্য তথ্য২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ওই নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বকালের উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার হলফনামায় দাবি করেন, নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস দমনে ৯০ শতাংশ সাফল্য অর্জিত হয়েছিল। প্রতিশ্রুত সড়ক, বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়েছে ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন, নদীভাঙন রোধ ও ভরাট, খালখননে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৩৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।