মোংলা বন্দরে গতির সঞ্চার, লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো জাগাচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বন্দর। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।বন্দর সূত্র জানায়, অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম। এছাড়া নৌ, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের সহজ সুযোগ থাকায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কন্টেইনারবাহীসহ সব ধরনের জাহাজের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এখন নিয়মিত এই বন্দর দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে।বন্দর সূত্রে জানায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দেশি বিদেশি আমদানি রফতানিকারকদের নজর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের দিকে। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারবাহী সহ সব ধরনের জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশে তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়ে রফতানি করা হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে ৪৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি কন্টেইনার বাহী জাহাজে করে বিভিন্ন প্রকারের বিদেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যার পণ্য বোঝাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিলো, সেখানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সাথে ৬ মাসে ১৬ টি জাহাজে আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি  জাপানি রিকিন্ডশন গাড়ী মোংলা বন্দর দিয়ে খারাস করা হয়েছে।আরও পড়ুন: শুল্ক কমতেই বন্দরে খালাস শুরু, রমজানে প্রভাব পড়বে কি খেজুরের দামে?মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এতে সৃষ্টি হয়েছে অন্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বন্দরে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও।মোংলা বন্দরের উপ পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দর এখন বহুমুখী উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক সম্ভানা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বেশ কযেকটি বড় বড় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জহাজ বাড়বে, বাড়বে পণ্য আমদানি-রফতানির সংখ্যা, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব। যা থেকে দেশের অর্তনীতিতেও বড় অবধান রাখবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।