রেলক্রসিংয়ের কারণে মহাখালীতে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। এই জটলা থেকে ঢাকাবাসীকে কিছুটা মুক্তি দিতে মহাখালী ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে জয়ী হন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। খালেদা জিয়া তৃতীয় মেয়াদে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এই মেয়াদেই নির্মিত হয়েছিল ১ দশমিক ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাখালী ফ্লাইওভার যার প্রস্থ ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। পরিকল্পনা কমিশন থেকে এই তথ্য জানা যায়। বিমানবন্দর থেকে শহরের মূল কেন্দ্রে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা মহাখালী। এই জায়গায় যানজট নিরসনে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে মহাখালী ফ্লাইওভার নির্মিত হয়। তৃতীয় মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতা নিয়ে ১৯ ডিসেম্বর, ২০০১ সালে এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এটি বাস্তবায়নে তিন বছর সময় লেগেছিল। চীনের ‘চায়না ফার্স্ট মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করে। ৪ নভেম্বর, ২০০৪ সালে এটা ঢাকাবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফ্লাইওভারের ১৯টি শক্তিশালী স্তম্ভ আছে যার ওপর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে। ফ্লাইওভারে দেওয়ালচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে, যা শহরের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৫-০৬ অর্থবছরে তিনি সর্বমোট ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা অনুমোদন করেছিলেন। ক্ষমতায় আসীন থাকা অবস্থায় এটিই ছিলো তার জীবনের শেষ উন্নয়নমূলক ব্যয়। খালেদা জিয়া তার শাসনামলে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৮৪ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি এই অর্থ অনুমোদন করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন কর্মসংস্থানে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, যাত্রী সুবিধায় বিমানবন্দরের পাশে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়নসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছিলেন দেশের প্রথম এই নারী প্রধানমন্ত্রী। যে সব প্রকল্পের কারণে আজও স্মরণীয় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশে কয়েক হাজার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শেড আধুনিকীকরণ, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, চট্টগ্রাম, মংলা নৌবন্দরের উন্নয়ন, পাটুরিয়া ফেরিঘাট, বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসন প্রকল্প, উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অন্যতম। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়ন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল, শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন কমপ্লেক্স, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এছাড়া জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। সারাদেশে গ্রামীণ পানি সরবরাহের কাজও শুরু করেছিলেন এই নারী প্রধানমন্ত্রী। ভ্যাট আইন, নারী শিক্ষা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, টিকাদান, খাদ্য উৎপাদন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন কাজের জন্য বাংলাদেশ মনে রাখবে এই নারী প্রধানমন্ত্রীকে। এমওএস/এএমএ/জেআইএম