জরিমানা দিলেই কি মাফ পেয়ে যাবেন দুর্নীতিবাজরা?

চলতি বছরের মাঝামাঝি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিদ্যমান আইনে সেই মামলায় টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও জামিন হয়নি তার।তবে গেল ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। যেখানে ২০০৪ সালের আইনে একটি নতুন উপধারা সংযুক্ত হয়েছে।  এতে বলা হয়েছে, দুদকের মামলার কোনো আসামি বিচারকালে অপরাধ স্বীকার করে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দিলে আদালত চাইলে তার সাজা পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক মাফ করে দিতে পারবেন। চব্বিশের জুলাই ও আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর যখন হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের ঘটনায় একের পর এক মামলা ও চার্জশিট হচ্ছে, তখন এ ধরনের আইন জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশোধিত আইনের সমালোচনা করে সাবেক জেলা জজ ও দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু বলেন, ‘সংশোধনের কারণে আইনটির অপব্যবহার অনেক বেশি হয়ে যাবে এবং এটার ফেয়ার জাস্টিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এই আইনের কারণে ইচ্ছাকৃত কেউ জেলেই থাকবে না, প্রথমদিনই অপরাধ স্বীকার করে জরিমানার টাকা দিয়ে বের হয়ে চলে আসবে। এ কারণে দুর্নীতির পথ সহজ  হতে যাচ্ছে।’ আরও পড়ুন: নির্বাচন ঘিরে মাঠে নামছে দুদক, গঠন হচ্ছে টাস্কফোর্স কমিটি দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবনায় এমন কোনো বিষয়ই ছিল না। আমলাতান্ত্রিক চাপে এবং রাজনৈতিক শক্তি যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের সুযোগ দেয়ার জন্য এ বিধান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতির ‘ফ্লাড গেট’ তৈরি হবে।’     সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপাতত কিছু বলার নেই জানিয়ে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি কমিশনের কোনো কিছু বলার থাকে, তা পর্যালোচনার পর অবস্থান তুলে ধরা হবে।’