বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন গত ২৫ ডিসেম্বর। বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনাস্থলে যান। লাল-সবুজের বুলেটপ্রুফ মিনিবাসে চড়ে সংবর্ধনাস্থলে যোগ দেন। তবে অনেকেই এই বাসটিকে তারকাদের ভ্যানিটি ভ্যানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এটি মোটেই কোনো ভ্যানিটি ভ্যান ছিল না। এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বুলেটপ্রুফ মিনিবাস। অনেকেরই নায়িকাদের বা তারকাদের ভ্যানিটি ভ্যান নিয়ে কৌতূহল আছে। এটি মূলত চলমান একটি ব্যক্তিগত কক্ষ, যেখানে তারা শুটিংয়ের সময় বিশ্রাম নেওয়া, মেকআপ করা এবং ব্যক্তিগত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ পান। বাইরে থেকে এটি দেখতে সাধারণ লাক্সারি বাস বা মিনিবাসের মতো হলেও ভেতরে থাকে আধুনিক সাজসজ্জা ও নানা সুবিধা। বেশিরভাগ ভ্যানিটি ভ্যানে থাকে ড্রেসিংরুম, মেকআপ কর্নার, বিশ্রাম কক্ষ, ওয়ারড্রব, সোফা-বেড, ব্যক্তিগত টয়লেট, শাওয়ার, ছোট্ট কিচেন কর্নার, টিভি, ইন্টারনেট কানেকশন এবং কখনো ছোট জিম বা যোগব্যায়ামের জায়গাও। অর্থাৎ একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে যে সুবিধা থাকে, তার বেশিরভাগই থাকে এই ভ্যানের ভেতর। বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের আছে ডিসি ডিজাইনের নিজস্ব ডিজাইন করা ভলভো বি৯আর ভ্যানিটি ভ্যান। এই ভ্যানটিতে একটি ছোট রান্নাঘর, চারপাশে পরিবেষ্টিত আলো এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপল টিভি সহ একটি ৪কে ডিসপ্লে। ভাইজান খ্যাত বলিউড অভিনেতা সালমান খানের আছে ডিসি ডিজাইনস দ্বারা কাস্টমাইজ করা একটি শো-স্টপিং ভ্যানিটি ভ্যান। উচ্চমানের চামড়া এবং কাঠের ভিনাইল ইন্টেরিয়র সহ, ভ্যানটিতে একটি বড় এলইডি স্ক্রিন, বৈদ্যুতিক রিক্লাইনার, একটি ছোট বাথরুম এবং সালমানের নিজস্ব প্রচুর পোস্টার সিয়ে সাজানো। অ্যাকশন অভিনেতা এবং প্রযোজক অজয় দেবগনের একটি ভ্যানিটি ভ্যান রয়েছে যার নকশাটি স্টার ট্রেক বা স্টার ওয়ার্স গাড়ির মতো অনন্য এবং আকর্ষণীয়। এর অভ্যন্তরে রয়েছে একটি বড় টিভি স্ক্রিন, আরামদায়ক আসন এবং অফিস স্পেস, একটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি বাথরুম সহ পার্টিশন দ্বারা তৈরি ভার্চুয়াল কক্ষ। বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফের বাড়ির মতোই ভ্যানিটি ভ্যানটিকে সাজিয়েছেন নিজের মতো করে। ক্যাটরিনা নিজের মুম্বইয়ের বাড়ির অন্দর যেভাবে সাজিয়ে তুলেছেন ঠিক একই ভাব বজায় রেখেছেন ভ্যানিটি ভ্যানেও। কাঠের খাবার টেবিল থেকে শুরু করে ড্রেসিং রুমের ডিম্বাকার আয়না কিংবা ভ্যানিটি ভ্যানের মধ্যে থাকা রান্নাঘর সব কিছুতেই বোহেমিয়ান রূপ দিয়েছেন ক্যাটরিনা। যা তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই। ক্যাটরিনার ভ্যানিটি ভ্যানের নকশা করেছেন অন্দরসজ্জায় পারদর্শী দর্শিনি শাহ এবং আনাইতা শ্রফ। সাদা রঙের দরজা ঠেলে ভ্যানের ভিতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে ড্রেসিং টেবিল এবং খাবারের জায়গা। খাবারের জায়গার একপাশে রয়েছে রান্নাঘর। যার ঠিক সামনের দেওয়ালে সাদা রঙের খরগোশের ছবি আঁকা। রান্নাঘরের ভিতরের রং সাদা রেখেছেন ক্যাটরিনা। তার দেওয়ালেও নানা প্রাণীর ছবি আঁকা রয়েছে। তারকাদের জন্য ভ্যানিটি ভ্যান কেবল বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তাও বটে। শুটিং সেটে শতাধিক মানুষ কাজ করেন, ফলে তারকাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের মাঝে বিশ্রাম নেওয়া, পোশাক বদলানো, মেকআপ করা কিংবা স্ক্রিপ্ট পড়ার মতো কাজের জন্য এই ব্যক্তিগত জায়গাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক তারকাই ভ্যানটিকেই নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে থাকেন, কারণ দিনের বেশিরভাগ সময়ই তারা এখানে কাটান। বলিউডে ভ্যানিটি ভ্যান ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয় ৮০-৯০ এর দশকে। ধারণা করা হয়, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং শত্রুঘ্ন সিনহা প্রথমদিকের নিয়মিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছিলেন। এরপর জনপ্রিয় নায়িকা শ্রীদেবী, মাধুরী দীক্ষিতদের হাত ধরে এই সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বড় বাজেটের সিনেমায় প্রায় সব তারকারই নিজস্ব বা ভাড়া করা ভ্যানিটি ভ্যান থাকে। ভ্যানিটি ভ্যানের দাম সুবিধা ও বিলাসিতার ওপর নির্ভর করে। ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটি কাস্টম ভ্যানিটি ভ্যান তৈরি করতে ৫০ লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আবার যারা স্থায়ী ভ্যান রাখেন না, তারা ভাড়ায় ব্যবহার করেন যার দৈনিক ভাড়া ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো হতে পারে। নায়িকাদের ভ্যানে সাধারণত পোশাক ও কস্টিউম রাখার জন্য আলাদা স্পেস, বড় আয়না এবং বড় মেকআপ জোন থাকে, কারণ তাদের মেকআপ ও ড্রেসিংয়ের সময় সাধারণত বেশি লাগে। ভ্যানিটি ভ্যানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং স্বস্তি। দীর্ঘ শুটিং, ভোর রাত, নতুন লোকেশন সব মিলিয়ে তারকাদের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। তাই একটি চলমান আরামদায়ক জায়গা মানসিক ও শারীরিক স্বস্তি এনে দেয়। এখানে তারা বিশ্রাম নিতে পারেন, পরিবার বা টিমের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, এমনকি অনলাইন মিটিংও করতে পারেন। ভ্যানিটি ভ্যান এখন শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং তারকাদের কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানেই তৈরি হয় চরিত্রের রূপ, সাজানো হয় দৃশ্যের প্রস্তুতি, আর শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেই এখানেই তারকারা খুঁজে পান তাদের ব্যক্তিগত শান্তির জায়গা। আরও পড়ুনদক্ষতা নিয়ে যাব বিদেশ, রেমিট্যান্স দিয়ে গড়বো স্বদেশবিয়েতে মেহেদি পরা আজকের নয়, ৫০০০ বছরের ঐতিহ্য কেএসকে/এএসএম