মাদক পাচার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত ভেনেজুয়েলা: মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, মাদক পাচার মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে তার দেশ। ওয়াশিংটনের আগ্রাসী সামরিক প্রস্তুতি এবং সাগরে একের পর এক নৌকায় মার্কিন হামলার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বছরের শেষ গত বুধবারও (৩১ ডিসেম্বর) আরও চাপ বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে মাদুরো একদিকে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছেন। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপোষরফার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ৮০ জনেরও বেশি কারাবন্দির মুক্তি দেয়া হয় যাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর বিজয়ের প্রতিবাদ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই ট্রাম্প প্রশাসনকে শান্তির বার্তা দেন মাদুরো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাদক পাচার, তেল ও অভিবাসন নিয়ে সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘যেখানেই হোক, যখনই হোক’ সংলাপে বসতে প্রস্তুত। আরও পড়ুন: মার্কিন অবরোধ সমর্থনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির আইন পাস ভেনেজুয়েলায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের ‘আন্তরিকভাবে কথা বলা শুরু করার এখনই সময়’। তার কথায়, ‘মার্কিন সরকার জানে, কারণ আমরা তাদের অনেক মুখপাত্রকে বলেছি যে, যদি তারা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি চুক্তি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করতে চায়, তাহলে আমরা প্রস্তুত।’ তবে ভেনেজুয়েলার বন্দরে সিআইএর ড্রোন হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেননি মাদুরো। ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে ড্রোন হামলা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা সিআইএ চালিয়েছিল বলে জানায় সিএনএন। গত তিন মাস ধরে মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একের পর নৌকায় হামলা চালিয়ে আসছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয় গত বুধবার। এসব অভিযানে ১১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব নৌকায় মাদক বহন করা হচ্ছিল। তবে সেগুলো যে সত্যিই মাদক বহন করছিল তার কোনো প্রমাণ এখনো দেয়নি তারা। মানববাধিকার গোষ্ঠীগুলো এসব হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।