মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা রিয়ালের দরপতনের জেরে ইরানে চলমান বিক্ষোভে গুলি চালালে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত, যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।’ গত রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। এরপরই বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার টানা পঞ্চম দিনের বিক্ষোভের মধ্যে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এল। এরইমধ্যে ইরানের এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে সাতজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে আরও অনেক শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, বেশ কয়েকজন নিহত তেহরান ও ইসফাহান থেকে শুরু করে লোরেস্তান, মাজানদারান, খুজেস্তান, হামাদান ও ফারসসহ অনেক এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা শাসনব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব বিক্ষোভ বছরের পর বছর ধরে ইরানি সরকারি ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র ইরানের অস্থিরতাকে দেশটির জনগণের যৌক্তিক ক্ষোভ প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ: আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইলেন স্বঘোষিত যুবরাজ পাহলভি তিনি বলেন, ‘এই বিক্ষোভ ইরানের জনগণের সরকারের ব্যর্থতা ও অজুহাতের বিরুদ্ধে তাদের যৌক্তি ক্ষোভকে প্রতিফলিত করে।’ বিবৃতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, তারা কয়েক দশক ধরে অর্থনীতি, কৃষি, পানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অবহেলা করেছে, অথচ একই সময়ে ‘সন্ত্রাসী প্রক্সি ও পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করেছে।’ বিবৃতিতেহ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ ইরানের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়।