শপথ নিয়েই কাজে ঝাপিয়ে পড়লেন মামদানি

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী শহর নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েই এক মূহূর্ত অপেক্ষা করলেন না জোহরান মামদানি। দায়িত্ব গ্রহণের পরই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন তিনি। শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জারি করেছেন একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ।গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে প্রথম মুসলিম হিসেবে শহরটির মেয়র হন মামদানি।  দুই মাস পর ২০২৬ সালের প্রথম দিন ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৩৪ বছর বয়সি এই যুবক। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হয়েছিল নববর্ষের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে, যা ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল।  সেখানে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নেন মামদানি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রমা দুয়াজিও। এর মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকা–বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়র হলেন মামদানি। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস তাকে শপথ পাঠ করান।  আরও পড়ুন: পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি এরপর দিনের বেলা সিটি হলের সিঁড়িতে এক বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মানুষ এই উদযাপনে যোগ দেন। প্রখ্যাত মার্কিন রাজনীতিক ও বামপন্থি নেতা ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।  স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন সম্ভব’। মামদানি তার অভিষেক ভাষণেই ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ‘আমরা আর দেরি করব না’—এই ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার প্রশাসন প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে।  মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। শপথ নেয়ার পরই এ ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দেন মামদানি।  আরও পড়ুন: ইরানের বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢাললেন ট্রাম্প ব্রুকলিনের একটি ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি আবাসন সংক্রান্ত তিনটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে শহরের মালিকানাধীন জমি আবাসনের জন্য চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের উদ্যোগ। মামদানির সহযোগী ও ডেপুটি মেয়র লেইলা বোর্জর্গ জানিয়েছেন, আবাসন সংকটই নিউইয়র্কের মূল সমস্যা এবং তারা খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।