নানা সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা-১৯, প্রতিকারের পরিকল্পনা বিএনপি প্রার্থীর

খানাখন্দে ভরা সড়ক, রাস্তা দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা-চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও পরিবেশ দূষণের মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৯। জনগণ এর প্রতিকার চায়। নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।সাভার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ এ মোট ভোটার ৯ লাখের উপরে।জাতীয় স্মৃতিসৌধ, পোশাক শিল্পনগরী, সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের শেষ নেই।আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় প্রধান সড়কে কাজ চললেও ভেতরের সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। আসনজুড়ে আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলোতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা যারা চাকরি করি, তারা সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারি না।’আরও পড়ুন: ঢাকা-১৯ /সবচেয়ে বড় আসনে দুর্ভোগের শেষ নেই বাসিন্দাদের, নানা পরিকল্পনা প্রার্থীদেরঅফিসগামী এক পুরুষ বলেন, ‘কর্মস্থলে যেতে দুই ঘণ্টা আসতে দুই ঘণ্টা চার ঘণ্টা আমার রাস্তাতেই চলে যায়।’আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কল-কারখানা বাসাবাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় ছেড়ে দেয়। এই কারণে বাচ্চাদের ডেঙ্গু, জ্বর, ম্যালেরিয়া হচ্ছে।এছাড়াও সড়ক দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোয় তীব্র যানজট নিত্যদিনের চিত্র। পোশাক কারখানার প্রসারের কারণে খেলার মাঠ কমেছে। মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বেড়েছে।ঢাকা-১৯ আসনের এক ব্যক্তি বলেন, কিশোর-তরুণদের মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখার জন্য এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাঠের ব্যবস্থা নেই। যেহেতু তারা খেলাধুলা করতে পারছে না, তাই তারা মাদকের দিকে ঝুঁকছে। ৫ আগস্টের পরে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে প্রায় দুই তিন হাজার মানুষ বেকার। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করছে।সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু জানান, তিনি আসনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা করেছেন এবং এই পরিকল্পনাগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরবেন।তিনি বলেন, মাদক আরও ছিনতাই যদি বন্ধ করা যায় তাহলে আমাদের শ্রমিকরাও একটু ভালো থাকবে।আরও পড়ুন: ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই হবে: আইয়ুব খানডা. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও রাস্তা-ঘাটে উন্নয়ন একটা কমন ফেনোমেনা। অতীতেও ছিল এখনও আছে। এগুলো তো আমাদের করতেই হবে। পাশাপাশি নতুন সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে এক নম্বর হলো মাদক। এখান থেকে কোনো কোনো মহল অর্থ উপার্জন করছে সেগুলো আমরা করতে দিব না। ফুটপাত থেকে টাকা নিবে সেটা আমরা কোনোভাবে বরদাস্ত করবো না। ইচ্ছা করলেই তো এমএ পাস করা সবাইকে সরকার চাকরি দিতে পারবে না। এদেরকে ট্রেইন আপ করতে হবে এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। সেই পরিকল্পনা করে আমি সাজাচ্ছি। যখন নির্বাচনী মেনোফেস্টো ঘোষণা করবো তখন সেখানে স্পেসিফিক থাকবে।এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের মানুষ নতুন রাজনীতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসেন।আফজাল হোসেন বলেন, ঢাকা-১৯ এর ভোটাররা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। বিগত সময়ে তারা সবকিছু দেখেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন মানুষ দেখছে এবং তারা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে।এই আসনে প্রাথমিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল মাহমুদ শান্তকে মনোনয়ন দেয়া হলেও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধের পর তিনি স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।