মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোর দক্ষিণে জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্যের সরকারের (এনইউজি) নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৪০ জান্তা সেনা নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রতিরোধ বাহিনীর বরাতে এ খবর জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম মিয়ানমার নাউ।প্রতিবেদন মতে, প্রথম ধাপের নির্বাচনের দুদিন পর গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নেপিদোর দক্ষিণে বাগো অঞ্চলে সিত্তাং নদীর পূর্ব ও পশ্চিমে জান্তার অবস্থান লক্ষ্য করে সমন্বিত আক্রমণ পিডিএফ সদস্যরা। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে রাজধানী নেপিদোর দক্ষিণে অবস্থিত একই এলাকায় আক্রমণ শুরু করে পিডিএফ। তারই ধারাবাহিকতায় এসব হামলা চালানো হয়। প্রথম আক্রমণটি সকাল ৭:৩০ টার দিকে ঘটে। একটি ক্যাম্প লক্ষ্যবস্তু করা হয় যেখানে প্রায় ৪০ জন সরকারি সেনা ছিল। এর মধ্যে দুজন নিহত হয়। কিছু গোলাবারুদও জব্দ করা হয়। একইদিন আরও দুটি স্থানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা প্রাণ হারায়। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। দিনভর দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয় বলে গণমাধ্যমে জানান বাসিন্দারা। ভয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন: মিয়ানমারে প্রথম ধাপের নির্বাচনে জান্তা সমর্থিত দলের জয় দাবি মিয়ানমারে গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ করা হয়। ২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। প্রায় চার বছর পর এই সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপের জাতীয় নির্বাচনে জয় দাবি করেছে জান্তাপন্থি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি তথা ইউএসডিপি। এদিকে ফাঁকা ভোটকেন্দ্রে বন্দুকের ভয়ে নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্রের জন্য নয় সামরিক শাসনের নতুন মুখ দেখতেই এই নির্বাচনী নাটক করছে জান্তা।