বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশি বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন ভারতের হিন্দু সংগঠনগুলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এবার একটি মেলায় বাংলাদেশের বই বিক্রিতে বাধা দিলো ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো শীতের মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার শ্যামনগরের গঙ্গা পাড়ে ২২ বছর ধরে চলা মেলায় দেশ-বিদেশের বহু প্রকাশনীর কবি, সাহিত্যিকদের বই বিক্রি হচ্ছিল। মেলায় একটি স্টলে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একাধিক বই বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় ভারতের কট্টর সংগঠন ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ও মেলা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে মেলা প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিরোধী স্লোগানও ওঠে। কিছু সময়ের জন্য মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানতে পেরেই মেলার সুরক্ষায় থাকা পুলিশ কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে অবশেষে জগদ্দল থানার পুলিশ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের একজন রতন মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন ও অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। যে দেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে, সেখানকার বই এই মেলায় রাখা উচিত নয়। ভবিষ্যতে যদি ওই বইগুলো মেলায় রাখা হয়, তাহলে আরও বড় আন্দোলন করা হবে। তবে এই বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের সদস্য মলয় দাস জানিয়েছে, বইমেলায় অংশগ্রহণকারীর বিক্রয় কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ নিয়ম মেনেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেলায় ‘বিতর্কিত’ বই বিক্রির বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণ সহযোগিতা করবো। স্থানীয় বাসিন্দা সাহিল বর্মন বলেন, বইমেলা জ্ঞান আদান-প্রদানের একটি মুক্ত মঞ্চ। সেখানে এই ধরনের বিরোধিতা বড্ড বেমানান মনে হয়। কোনো বই শুধু দেশীয় পরিচয়ের কারণে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। ডিডি/এসএএইচ