জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জনগণ রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে, প্রয়োজনে আরও রক্ত দিয়ে হলেও পরিবর্তনকে সফল করা হবে।শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দিরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, যারা আবারও জনগণের অধিকার হরণ করতে চাইবে, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা- এই জাতি কাউকে ছাড় দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আর কোনো সাজানো বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদ পুরোনো হোক কিংবা নতুন- যতদিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। অতীতের মতো ছাত্র-জনতা বুক চিতিয়ে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সামনে এগিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কিশোর, তরুণ ও যুবকদের জন্য এমন একটি দেশ রেখে যেতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। চাঁদাবাজমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর আইন ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।আরও পড়ুন: অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে: গোলাম পরওয়ারহিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং শ্রীদাম কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন।এর আগে বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের খামারবাড়ী এলাকায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের আরেকটি সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি বলেন, ইসলামই একমাত্র ব্যবস্থা যা সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।বিল ডাকাতিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে খাল খনন ও নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে পুনরায় দায়িত্ব পেলে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানসহ অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেন তিনি।