২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় ৯০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

গেলো ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযান ও জোরদার আইনপ্রয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এসব অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৫ সাল জুড়ে এ সাফল্য জেআইএমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনপ্রয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক সুশাসন জোরদার, সেবার মান উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জেআইএম জানায়, বছরজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও কাজ করা বিদেশিদের শনাক্ত করে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে অভিবাসন বিভাগ রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সময়ে বিভাগের মোট রাজস্ব আদায় ৫.১ বিলিয়ন রিঙ্গিত ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে ১৯ হাজার ২০৫টি প্রবেশ পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা সেবা প্রদানের দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিসরেও মালয়েশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। পাসপোর্ট ইনডেক্স র‌্যাংকিং অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেআইএম। এতে দেশটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। জেআইএমের মতে, এসব অর্জন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে অভিবাসন খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও দ্রুত বাস্তবায়ন, জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বিভাগের ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি উদ্যোগের পেছনে একটি মূল লক্ষ্য কাজ করছে—দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবশালী অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। জেআইএম পেশাদারিত্ব, দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। বিবৃতিতে অভিবাসন বিভাগ জানায়, দেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশের জন্য একসঙ্গে এগিয়ে চলাই আমাদের অঙ্গীকার।’ এমএমকে/এএসএম