কুয়াশা, তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ায় মরে যাচ্ছে মৌমাছি। মানিকগঞ্জে ব্যাহত হচ্ছে সরিষার পরাগায়ন। মধু সংগ্রহের পরিবর্তে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৌ-খামারিরা। সরিষার ফুল ঝড়ে যাওয়া, ফল সংকুচিত হয়ে যাওয়াসহ ছত্রাকের আক্রমণে দিশাহারা কৃষক।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের চলমান শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মানিকগঞ্জের মধু-খামারি ও সরিষা চাষিরা। ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত ও হিমেল হওয়ার কারণে মৌ খামারিদের মৌমাছির বাক্সগুলো থেকে বের হতে পারছে না মৌমাছি। খাদ্যের অভাব ও সূর্যের তাপ না থাকায় অসুস্থ হয়ে মরে যাচ্ছে মৌমাছি। এতে ক্ষতি ও লোকসানের মুখে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মৌ-খামারিরা।আফজাল নামে এক মৌখামারি বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত কুয়াশা এবং হিমেল হাওয়ায় নিজেরাই টিকতে পারছি না। মরে যাচ্ছে মৌমাছিও। এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছি মধু সংগ্রহের কাজের জন্য। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, সব মরে একদম লোকসানে পড়েছি।’কথা হয় সিদ্দিকী নামে এক খামারির সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে, মাছি মরে যাচ্ছে, লোকসানের মুখে আছি আমরা। নিজেরাও না খেয়ে আছি, মাছিগুলোও মারা যাচ্ছে। টুম করে শুয়ে আছি কিন্তু বের হতে পারছি না।’রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছি। তাছাড়া উপায় নেই। কি যে সমস্যার মধ্যে আছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জের মাঠগুলো এখন হলুদের গালিচা, চোখ জুড়ানো সরিষায় বুক বাঁধছে চাষিরাএদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে সরিষা গাছের ফুল ঝড়ে যাচ্ছে। সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ফল। মৌমাছির দ্বারা পরাগায়ন না হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সরিষা চাষিদের।সৌরভ নামে এক সরিষা চাষি জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার। ফুল ফল ঝরে যাচ্ছে সরিষার। ফল বাড়ছে না শুধু সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।সেকেন্দার নামে এক কৃষক জানান, এভাবে কয়েকদিন থাকলে তো ফল ভালো হবে না। ছত্রাকের আক্রমণটা দেখা দিয়েছে।কৃষিবিদ তহমিনা খাতুন জানান, মৌমাছিদের খাদ্যের জন্য চিনি দেয়া, উষ্ণ জায়গা ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক সরিষা খেতে ব্যবহারের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর দেয়া তথ্য বলছে, জেলায় ৬৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে এ বছর সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। ২ কোটি ৫০ হাজার টাকার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।