ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে

টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা বলেছেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। ইরানে প্রায় এক সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে হওয়া সবচেয়ে বড় এ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলে চুপ করে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র। ‘আমরা প্রস্তুত’ এমন মন্তব্য করে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও কী ধরনের হস্তক্ষেপ হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি সতর্ক করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এতে ওয়াশিংটনের স্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন: বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের ‘উসকানিমূলক’ হুমকি, জাতিসংঘে ইরানের চিঠি ট্রাম্পের মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আরেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান আলী শামখানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘উদ্ধার’–এর ইতিহাস ভালোভাবেই জানে। ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে শুরু করে গাজা পর্যন্ত। অজুহাত দেখিয়ে ইরানের নিরাপত্তার কাছাকাছি কোনো হস্তক্ষেপমূলক হাত এগিয়ে এলে তা এমন জবাবের মুখে পড়বে, যা অনুতাপের কারণ হবে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা একটি রেড লাইন-এটি কোনো দুঃসাহসিক টুইটের বিষয় নয়। এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ‘অবৈধ হুমকি’কে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করেছে তেহরান। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টর বক্তব্যের নিন্দা জানানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উসকানি, ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব ইরানের প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে বেশ কয়েকজনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের রেকর্ড দরপতন থেকেই এই বিক্ষোভের শুরু। বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। তবে তেহরানের রাজপথে নেমে আসা কিছু বিক্ষোভকারীর কাছে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আশার বার্তা হয়ে এসেছে। তারা জানান, ট্রাম্প বা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কিছু বললেই প্রশাসন চাপে পড়ে। তেহরানের কিছু বাসিন্দা বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে আতঙ্কিত না হয়ে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তারা।