প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন— প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি।এতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫–এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, 'কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হলে সে ক্ষেত্রে তিনি শুধু নিজের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ড বিল ও ফেস্টুনে ছাপাতে পারবেন।'খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে দলটির প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটা মীমাংসিত হয়নি। এ বিষয়ে জানতে শিগগিরই ইসিতে যাবে দলটি।বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাসহ কৌশলগত কারণে বিষয়টি এখনই সামনে আনা হচ্ছে না।সময়মতো প্রকাশ্য ঘোষণা আসবে এ নিয়ে। কারণ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ এখনো শোকার্ত। ইঞ্জিন সংকটে টানা ১১ দিন বন্ধ পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল— বণিক বার্তার প্রথম পাতার সংবাদ এটি।অনেকদিন ধরেই লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সীমিতসংখ্যক ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে টানা ১১ দিন যাত্রীবাহী ট্রেনের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য কোনো ইঞ্জিন বরাদ্দ রাখা হয়নি। এতে গত ১৯-২৯ ডিসেম্বর পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর আগে এত লম্বা সময় পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ রাখার নজির নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্রতিদিন যাত্রী চাহিদার বিপরীতে ট্রেনের টিকিটের প্রাপ্যতা অন্তত ১০ গুণ কম। উৎসবের সময়গুলোতে বাড়তি ট্রেন ও কোচ সংযোজন করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া হয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ছুটির আমেজে ডিসেম্বরে ট্রেনের চাহিদা বাড়লেও রেলওয়ের বাড়তি কোনো আয়োজন থাকে না। ফলে এ সময়টিতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে পণ্যবাহী ট্রেন সার্ভিসের ওপর ভর করে পরিস্থিতি সামাল দেয় রেলওয়ে।রেলওয়ের তথ্যমতে, দুয়েকটি ছাড়া প্রায় সব যাত্রীবাহী ট্রেনই প্রতি বছর লোকসানে চলাচল করে। তবে ব্যতিক্রম পণ্যবাহী ট্রেন সার্ভিস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সবচেয়ে বেশি আয়কারী বিরতিহীন ট্রেনের তুলনায় একই রুটের কনটেইনার কিংবা অন্য পণ্যবাহী ট্রেনগুলো দ্বিগুণ আয় করে। তাছাড়া সড়কপথে যানজট, চলন্ত অবস্থায় পণ্য চুরি বা দুর্ঘটনা ঝুঁকির বিপরীতে পণ্য পরিবহনে রেলের প্রতি আগ্রহ ব্যবসায়ীদের। এ খাতে ব্যবসায়ীদের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও রেলওয়ে প্রায়ই অবহেলা দেখিয়ে আসছে। যার সর্বশেষ নজির এ টানা ১১ দিন পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ রাখা। ফলস্বরূপ চট্টগ্রাম বন্দরগামী ও বন্দরে আসা কনটেইনারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহন সংকটের মধ্যে পড়ে। ইত্তেফাকের প্রধান খবর— প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য।এতে বলা হয়েছে, টানা ১৫ বছর মার্চ-এপ্রিলের আগে সব বই দিতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।এবারও মার্চের আগে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সব বই পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপানোর নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার অবৈধ গাইড বই বাণিজ্য।যার মধ্যে লেকচার পাবলিকেশন ৮০ শতাংশ নোট-গাইড বাজারে সরবরাহ করে আসছে এবং অবৈধ এই ব্যবসার বাজার সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে।প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা গোপনে কাজ করেন। তারা মূলত নোটবই লেখার কাজ করেন।আর গাইড বইয়ের বিক্রি বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিশন ও ঘুষ প্রদান বাবদ এবার ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।মাধ্যমিকের অন্তত দশজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, ক্লাসে বুকলিস্ট দিয়ে নির্দিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নোট, গাইড, গ্রামার ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। ফলে কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়েই কিনতে হয়।এদিকে, সৃজনশীল মেধা বিকাশ নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে হাইকোর্টের এক আদেশে নোট বইয়ের পাশাপাশি গাইডও নিষিদ্ধ করা হয়।আইনটি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘদিন ধরে নোট-গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা চলছে।সমকালের প্রধান খবর— এনসিপির চার প্রার্থী কোটিপতি বাকিদের আয়, সম্পদ কম।এই সংবাদে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪৪ জন।জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এ সংখ্যা পরে কমতে পারে।নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এই ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে চারজন কোটিপতি। বাকিরা আয়-সম্পদে পিছিয়ে।এনসিপির কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন (ঢাকা-২০), তার মোট সম্পদ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকার।এরপরে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাশেল উল আলমের (সিলেট-৪), তার সম্পদ দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকার।নাটোর-৩ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদের রয়েছে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার সম্পত্তি।লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব আলমের অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান আনুমানিক মূল্য এক কোটি ১০ লাখ টাকা। তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদ্য সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই।কোটির টাকার কাছাকাছি সম্পদ রয়েছে নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারের। তার সম্পদের মূল্য ৯৬ লাখ টাকা।কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সব মিলিয়ে তিনি সম্পদ দেখিয়েছেন ৯০ লাখ টাকার।নোয়াখালী-৬ আসনের আবদুল হান্নান মাসউদের মোট সম্পদ ৭৬ লাখ টাকা।এদিকে, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আয়ের দিক থেকে শীর্ষে। তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা।তিনি ৩২ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর— ৩০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন।এতে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ।আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করার আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল শুক্রবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।এদিন জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি।গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে ইনকিলাব মঞ্চ। হলফনামায় প্রার্থীর তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন— দেশ রূপান্তরের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।এই খবরে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই চলছে।এই যাচাইবাছাইয়ের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে ওঠে এসেছে প্রার্থীদের হলফনামা। আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মামলার তথ্য নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যে বাস্তবতার ঘাটতি আছে কি না সেই প্রশ্ন সবখানে।অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হলেও হলফনামায় তাদের বার্ষিক আয় কিংবা সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম দেখানো হয়েছে।আবার কিছু প্রার্থী নিজ নামে বাড়ি বা গাড়ি নেই উল্লেখ করলেও তাদের স্ত্রীদের নামে বিপুল সম্পদের হিসাব ওঠে এসেছে।জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, হলফনামার তথ্য নিয়ে আমরা ২০০৫ সাল থেকে লড়াই করে আসছি। উদ্দেশ্য একটাই জনগণকে ক্ষমতায়িত করা।কিন্তু বাস্তবতা হলো, নির্বাচন কমিশন কখনোই প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করেনি।দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— ACC to scrutinise affidavits of aspirants; অর্থাৎ প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দেখবে দুদক।এই সংবাদে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের তথ্য খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যা প্রথমবারের মতো।সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, কমিশন ইতোমধ্যে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা যাচাই করা শুরু করেছে।যদি কোনো হলফনামায় ভুল বা মিথ্যা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে দুদকের আইন ও বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।হলফনামায় প্রার্থীরা তাদের সম্পত্তি ও দায়ের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রার্থীরা। তাদের এই ধরনের ঘোষণাকে খুব কমই প্রশ্ন দেখা করতে গেছে। বরং জবাবদিহিতার পরিবর্তে সাধারণ কাগজপত্র হিসেবে এটি বিবেচিত হয়েছে।সম্প্রতি আরপিও'র সংশোধনীর প্রেক্ষাপটে দুদকের এই পদক্ষেপ গুরুত্ব পাবে।কারণ, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল এবং নির্বাচনের পরেও এটি প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।