শীতকাল এলে অনেকের মাথাব্যথা লেগেই থাকে। সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন ঠান্ডা হাওয়া, দুপুরে রোদের উষ্ণতা, আবার সন্ধ্যায় কনকনে ঠান্ডা- তাপমাত্রার এই ওঠানামার মাঝেই মাথাটা ভার হয়ে আসে। বাইরে হিমেল হাওয়া, ভেতরে গরম ঘর। শরীর ঠিক বুঝে উঠতে পারে না কীভাবে মানিয়ে নেবে। আর সেই সুযোগেই মাথাব্যথা চুপি চুপি হাজির হয়।শীতকালে মাথাব্যথা বাড়ার পেছনে বড় কোনো রহস্য নেই। ছোট ছোট অভ্যাস, পরিবেশ আর আবহাওয়ার বদলই এর আসল কারণ। যারা তাপমাত্রার পরিবর্তনে বেশি প্রভাবিত হন, শীতে তাদের মাথাব্যথার মাত্রা বাড়ে। অর্থাৎ শীত নিজেই ছোট ছোট কারণে মাথাব্যথার পথ তৈরি করে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত খবরে চলুন সহজ ভাষায় জেনে নিই শীতে মাথাব্যথা বাড়ার কারণ, লক্ষণ ও মুক্তির উপায়- শীতে মাথাব্যথার মূল কারণঠান্ডা বাতাস আর রক্তনালির সংবেদনশীলতা: ঠান্ডা লাগলেই মাথার ভেতরের রক্তনালিগুলো হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আবার গরম ঘরে ঢুকলে সেগুলো প্রসারিত হয়। এই বারবার সঙ্কোচন আর প্রসারণেই মাথার ভেতর চাপ তৈরি হয়। কপাল, কানের পাশ বা চোখের ওপরে টনটনে ব্যথা শুরু হয়। সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে মাথা না ঢাকলে অনেকের ব্যথা তখনই শুরু হয়ে যায়। শুষ্ক বাতাসে সাইনাসের চাপ: শীতে ঘরের ভেতর হিটার চললে বাতাস খুব শুকনো হয়ে যায়। এতে নাক ও সাইনাস শুকিয়ে গিয়ে ভেতরে চাপ তৈরি হয়। চোখের পেছনে বা গালে ভারী ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম-এসবই সাইনাসজনিত শীতের মাথাব্যথার লক্ষণ। রাতে হিটার চালিয়ে ঘুমালে বা মুখ দিয়ে বেশি শ্বাস নিলে এই সমস্যা বাড়ে। আরও পড়ুন: শীতে চুল বেশি পড়ছে, মেনে চলুন ৭ উপায়যেসব লক্ষণে বুঝবেন শীতই ব্যথার কারণ শীতের মাথাব্যথা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। কারও মাথার চারপাশে বেল্টের মতো চাপ লাগে, কারও আবার হঠাৎ করে তীব্র খোঁচা দেয়। আলো বা শব্দ বেশি বিরক্ত করে, ঘরের কেমিক্যালের গন্ধেও ব্যথা বাড়ে। ঠান্ডায় কাঁধ শক্ত হয়ে ঘাড় পর্যন্ত টান ধরে-সেই টানই ধীরে ধীরে মাথায় উঠে আসে। অনেক সময় ব্যথা শুরু হওয়ার পরেই টের পাওয়া যায়, ঘাড় ও শরীর কতটা শক্ত হয়ে আছে। যেসব উপায়ে সহজে আরাম মিলবে শীতের মাথাব্যথা কমাতে জটিল কিছু করার দরকার নেই। কিছু ছোট অভ্যাসই বড় ধরণের আরাম দিতে পারে -বাইরে বেরোনোর সময় মাথা, কান আর কপাল ঢেকে রাখুন। টুপি বা স্কার্ফ ঠান্ডার ধাক্কা কমায়। গরম পানি, লাল চা, ভেষজ চা বা হালকা স্যুপ খান। শীতে তৃষ্ণা কম লাগে, তাই পানি খাওয়াও কমে যায়। অথচ পানির অভাবেই অনেক মাথাব্যথা হয়। গরম তোয়ালে ঘাড়ের পেছনে রাখলে পেশি ঢিলে হয়, চাপ কমে। কপালে হালকা ঠান্ডা কাপড় দিলে তীব্র ব্যথা কিছুটা কমে। ধীরে ধীরে ঘাড় আর কাঁধ ঘোরানোর ব্যায়াম টান কমাতে সাহায্য করে। ঘরের যে ছোট পরিবর্তনেই ব্যথার উপশম শীতের ঘরের বাতাস খুব শুকনো হলে সাইনাসে চাপ বাড়ে। হিটারের পাশে পানিভর্তি পাত্র রাখলে বা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে। পড়াশোনা বা স্ক্রিনে কাজ করার সময় আলো কম হলে চোখে চাপ পড়ে, তাই আলো ঠিক রাখুন। গরম কাপড় পরে অল্প সময়ের জন্য বাইরে হাঁটাও উপকারি-ঘরের বদ্ধ বাতাস থেকে একটু মুক্তি মেলে। আরও পড়ুন: শীতে বারবার ঠান্ডা লাগছে? দেখুন ৮ খাবারেই ম্যাজিক শীতের মাথাব্যথা হঠাৎ হয় না। ঠান্ডা বাতাস, শুষ্ক পরিবেশ আর কম পানি পান-এই ছোট কারণগুলো মিলেই সমস্যা বাড়ায়। মাথা ঢেকে রাখা, গরম তরল পান করা, ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ানো আর শরীর ঢিলা রাখলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বস্তি মেলে। শীত পুরোপুরি দূর করা যাবে না, তবে এই অভ্যাসগুলো শীতকে অনেকটাই সহনীয় করে তোলে। তবু যদি ব্যথা ঘনঘন বা অসহ্য হয়ে ওঠে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।