জিনিস হারানো ও স্ক্যাম রোধে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, ওয়ালেট বা জরুরি পরিচয়পত্র হারানো এবং ডিজিটাল স্ক্যামের শিকার হওয়া অনেকের জন্যই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভরতার কারণে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন, ফলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যায় না।এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়া (ইওসি)-তে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এনেছেন নতুন ধারণা। তাদের তৈরি কমিউনিটি-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অ্যাওয়ারজন (AwareXone) এখন আলোচনায়। প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মো. শাহরিয়ার শানাজ শুভন সময় সংবাদকে বলেন, ‘জিনিস হারানো বা স্ক্যামের শিকার হওয়ার পর মানুষ সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়। কিন্তু সেখানে তথ্য দ্রুত হারিয়ে যায় এবং সত্যতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। আমরা এমন একটি কাঠামোবদ্ধ সিস্টেম তৈরি করেছি যা নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর।’ তিনি আরও বলেন, স্ক্যামের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো মানুষ সাধারণত প্রতারিত হওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পারে। আগে থেকে সতর্ক করার কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় অনেকেই আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অ্যাওয়ারজন সেই শূন্যস্থান পূরণ করাই মূল লক্ষ্য। আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় ৯০ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক উক্যখিং মারমা জয় প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি উন্নয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার তত্ত্বাবধানে রিপোর্টিং সিস্টেম ও ডেটা স্ট্রাকচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন। এটি মূলত কমিউনিটি-চালিত প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহারকারীরা হারানো বা খুঁজে পাওয়া জিনিসের বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন এবং স্ক্যামের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন, যা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। পরিচয় যাচাইকরণ ও কমিউনিটি ভ্যালিডেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, অ্যাওয়ারজন কেবল একটি রিপোর্টিং টুল নয়, এটি তথ্যের দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিত আর্কাইভ হিসেবেও কাজ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও দুই বাংলাদেশি তরুণের এই উদ্যোগ হারানো জিনিস উদ্ধার এবং স্ক্যাম প্রতিরোধে কার্যকর সমাধান হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।