ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মেনে শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অটোরিকশা, যার চালকরাও প্রশিক্ষিত নন। অটোরিকশার চালকের ভুলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ থেকে রেহাই পাননি অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিসীমার ব্যাপারটা বিরাট একটা সমস্যা। এদের নিয়ন্ত্রণ নেই। গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। আমার সঙ্গেও একটি ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম; তো একদিন গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। পথে ব্যাটারিচালিত রিকশা আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সোজা টেনে চলে গেলো। আমি গাড়ি থেকে নামলাম; দেখলাম একটা বাচ্চা ছেলে চালাচ্ছে। তার প্রশিক্ষণ নেই, কিছুই জানে না। ব্রেকটা কীভাবে করতে হবে, তাও পারে না।’ ‘আমার গাড়িটার ক্ষতি হলো। ডাম্পিংটা করাতে ২৫ হাজার টাকা লেগেছিল। আমি ওর দিকে তাকালাম...বাচ্চা ছেলে; তার কাছে ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়তো সম্ভব না বা অনেক বড় কিছু। কি আর বলা.. কিছুই না বলে চলে আসতো হলো।’ যোগ করেন উপদেষ্টা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরের আড্ডার মোড়ে ‘বুয়েট উদ্ভাবিত তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার সড়ক থেকে অটোরিকশা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আজকে আমার পাশে বসা আদিলুর রহমানসহ সব উপদেষ্টা আমাকে বলেন যে, ঢাকা শহরে আর ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখা যাবে না। এগুলো উঠিয়ে দেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, রিকশা মানে শুধু একটি রিকশা বা একজন চালক নন। এর পেছনে একটি পরিবার আছে; তাদের জীবন-জীবিকা আছে। সেজন্য আমি বলি—রিকশা উঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি।’ আরও পড়ুন‘উপদেষ্টারা বলেন অটোরিকশা তুলে দেন, আমি বলি শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি’ রাস্তায় বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘ঢাকার সড়কে প্রথম যে সমস্যা সেটা হলো বাস নিয়ে। তারা যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। বিশৃঙ্খলার মূল কারিগর বাসগুলো। আমরা বাসের বিশৃঙ্খলা কমানোর জন্য আগামীকাল বা পরশু একটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করবো। যেখানে শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় বাস থামবে। যত্রতত্র থামানোর সুযোগ থাকবে না। ক্রমান্বয়ে আমরা বিভিন্ন রুটে বাসের এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবো।’ উচ্চগতির গাড়ি ঢাকার রাস্তায় থাকায় জ্বালানি ও সময় অপচয় হচ্ছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা বলেন, ‘ঢাকায় যেসব গাড়ি চলাচল করে, তাতে দেখা যায় তাদের ইঞ্জিনের গতি ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি ৬-৭ কিলোমিটার। এতে উচ্চগতির ইঞ্জিন ব্যবহার করা গাড়িগুলোতে ফুয়েলের ব্যাপক অপচয় ঘটছে। সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গড় গতি কম, তারপরও দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এটার কারণ হলো বিশৃঙ্খলা, নিয়ম না মানা। ঢাকায় রাস্তা কম, প্রসারিত না; এটা যেমন ঠিক। তেমনি যে রাস্তা আছে, তা শৃঙ্খলা মেনে ব্যবহার করে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নিরাপদ যাত্রাও নিশ্চিত করা সম্ভব। সেজন্য আমরা বুয়েটের তৈরি করা ই-রিকশা চালু করছি। সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চারটি রুটে এ রিকশা পাইলটিং হিসেবে চালানো হচ্ছে। দ্রুত ই-রিকশা সারা ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা আকারে ছোট লিথিয়াম ব্যাটারির অটোরিকশা চালু করছি। এটার মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে এর চলাচল সীমিত রাখতে পারবেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন; প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। এএএইচ/ইএ