আমাদের দেশে বেশিরভাগ পরিবারেই পিঠ চুলকানো কোনো বিলাসিতা নয়,বরং একরকম পারিবারিক দায়িত্ব। সোফায় বসে টিভি দেখতে দেখতে হঠাৎ কারো ডাক, ‘এই জায়গাটা একটু চুলকে দাও তো!’-এই দৃশ্য আমাদের ঘরে ঘরে পরিচিত। আমাদের প্রতিটি ঘরে প্লাস্টিকের ব্যাক স্ক্র্যাচার, কাঠের লাঠি কিংবা কৌশলে বাঁকানো স্কেল রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের প্রায়ই সবাই এই কাজ করে এসেছে। কিন্তু যেটা আমাদের কাছে একেবারে দৈনন্দিন ও সাধারণ ঘটনা, সেটাই আজ পৃথিবীর একাধিক দেশে রীতিমতো পেশা। শুধু তাই নয়-ভালো আয়ের পেশা। অবাক লাগলেও সত্যি, এখন মানুষ কারো পিঠ বা মাথা চুলকিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছে। এলোমেলো চুলকানি নয়এই কাজটিকে বলা হচ্ছে পেশাদার ব্যাক স্ক্র্যাচিং বা স্ক্র্যাচ থেরাপি। নিউ ইয়র্কের মতো শহরে স্পা ও স্টুডিওতে প্রশিক্ষিত অনুশীলনকারীরা কাঠামোগত স্ক্র্যাচিং সেশন করান। প্রতি ঘণ্টার চার্জ ১০০ ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ হাজার বা তারও বেশি। এখানে বিষয়টা মোটেও এলোমেলোভাবে নখ বসানো নয়। পেশী শক্ত করার বদলে জোর দেওয়া হয় নখের মৃদু ট্রেসিং, ছন্দবদ্ধ আঁচড়, মাথার ত্বকের কাজ এবং ধীর, নিয়ন্ত্রিত স্পর্শের উপর। ঠিক যেভাবে ম্যাসাজ বা ফেসিয়ালের জন্য মানুষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়, সেভাবেই বুকিং হয় এই স্ক্র্যাচ থেরাপির। কেন এত আরাম?গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা আঁচড় আমাদের ত্বক ও মস্তিষ্কের সংযোগস্থলে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এতে সক্রিয় হয় এমন স্নায়ু, যা আনন্দের সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। ফলে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিন নিঃসৃত হয়-যেগুলো মেজাজ ভালো করা, চাপ কমানো ও ঘুমের উন্নতির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে সেই জায়গায় রক্তপ্রবাহ বাড়ে, যা ছোটখাটো ম্যাসাজের মতো কাজ করে। এ কারণেই অনেক সময় চুলকানি না থাকলেও আঁচড় দিলে আরাম লাগে। সেশন চলাকালীন অনেকেই তন্দ্রাচ্ছন্ন বা গভীর প্রশান্তি অনুভব করেন। ব্যাক স্ক্র্যাচার হওয়াটাও কিন্তু সিরিয়াস কাজএই পেশাটি আশ্চর্যজনকভাবে বেশ কাঠামোবদ্ধ। হুইস্পারওয়েভ বা স্ক্র্যাচার গার্লসের মতো নামের স্টুডিওতে এক ঘণ্টার সেশনের মূল্য প্রায় ১৬০ ডলারের কাছাকাছি নিয়ে থাকে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯ হাজার টাকারও বেশি। অনেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে এই কাজ শেখেন, যার খরচ প্রায় ৩০-৩১ হাজার টাকা। স্বাস্থ্যবিধি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-পরিষ্কার নখ, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ও ত্বকের সুরক্ষা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা বাধ্যতামূলক। বেশিরভাগ মানুষ এটি খণ্ডকালীন কাজ হিসেবেই করেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে ক্লায়েন্টদের গভীর বিশ্রামে ডুবে যেতে দেখেই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু পিঠ নয়, পুরো শরীরস্ক্র্যাচ থেরাপি অনেক সময় পুরো শরীরজুড়ে করা হয়। ৩০ থেকে ৯০ মিনিটের সেশনে থাকে হাত ট্রেসিং, মাথার ত্বক আঁচড়ানো, ছন্দবদ্ধ স্ট্রোক-সবই স্ট্রেস কমানোর লক্ষ্যে করা হয়। । এখানে চুলকানি সারানো নয়, বরং মানসিক আরামই মূল উদ্দেশ্য। হয়তো আপনার ভাইবোন দশ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে পিঠ চুলকাতে রাজি হন না। কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, সেই একই আরাম পেতে মানুষ খরচ করছেন হাজার হাজার টাকা। আমাদের ঘরের সাধারণ অভ্যাসই এভাবে বদলে যাচ্ছে আধুনিক ‘ওয়েলনেস’ পেশায়-যেখানে নখের হালকা ছোঁয়াতেই লুকিয়ে আছে প্রশান্তি, আর আয়ও কম নয়। সূত্র: এনডিটিভি নিউজ আরও পড়ুন:শীতে গোসলে যে ভুল করলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক সাইবেরিয়ান বিড়াল জেবু, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খাপ খাওয়া ও যত্ন এসএকেওয়াই/