শীতের সতেজ প্রকৃতি আর নতুন গন্ধে ভরা সময়ে অনেকের জীবনে আসে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ‘বিয়ে’। কিন্তু শুধু সাজ-গয়না আর অতিথির খুশিতে ভীষণ আনন্দে মগ্ন হয়ে পড়লে মাঝে মাঝে ছোটখাটো সমস্যা চোখে না পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রথম রাত যেখানে নতুন জীবন শুরু হয়, কিন্তু যদি প্রস্তুতি না থাকে, তখন ছোট কিছু ভুলও বড় ঝামেলার কারণ হতে পারে। এই শীতে বিয়ে করছেন? তাহলে জেনে নিন প্রথম রাতকে মধুর ও ঝামেলাহীন করে তুলতে কোন বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই কয়েক মাসে গ্রাম-শহর মিলিয়ে প্রতিটা জায়গায় বিয়ের সানাই বাজে। আরামদায়ক আবহাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের ছুটি ও আয়োজনের সহজতা এসব কারণেই অনেকে শীতকেই বিয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করেন। এ সময় অতিরিক্ত গরমে ঘামে ভিজে যাওয়া বা ক্লান্তির মতো গরমের সমস্যা থাকে না, তাই অনুষ্ঠান থেকে শাড়ি-গয়না থেকে ফুল-খাবার সবকিছুই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। তবে এই আরামের আবরণে অনেকেই শীতকালীন বিয়ের কিছু বাস্তব সমস্যাকে অবহেলা করে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা না করলে আনন্দের এই আয়োজন বিরক্তিকর অভিজ্ঞতায়ও রূপ নিতে পারে এমনকি বিয়ের প্রথম রাতেও শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির সম্মুখীন হতে পারেন নবদম্পতি। শীতকালে বিয়ের প্রকৃত সুবিধা গরমের তুলনায় শীতে ঘাম বা অতিরিক্ত ক্লান্তি কম থাকে, ফলে অনুষ্ঠানের প্রতিটি ধাপ স্বাচ্ছন্দ্যে নেওয়া যায়। শীতকালে ফুল, খাবার ও ডেকোরেশন ধরে রাখা সহজ হয়। স্কুল-কলেজের ছুটি থাকায় আত্মীয়-আশে পাশের লোকজন উপস্থিত থাকতেও পারে। দিনের শেষেও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া থাকার কারণে রাতের অনুষ্ঠান ও ছবি তুলতে সুবিধা থাকে; শীতকালের আলোও আলাদা করে সুন্দর করে। শীতকালের বিয়েতে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে ভেন্যু ও খরচ: শীতকালে বিয়ের চাহিদা বেশি থাকায় অনেক সময় ভালো জায়গা বা তারিখ আগে পেয়ে যায়, ফলে খরচ বাড়তে পারে বা পছন্দের জায়গা মিলতে দেরি হতে পারে। আবহাওয়া: সারাদিনের অনুষ্ঠানে কুয়াশা বা কনকনে ঠান্ডা অপ্রস্তুত হলে অতিথি ও দম্পতির জন্যই অসুবিধা তৈরি করতে পারে। পোশাক ও ফ্যাশন: শাল বা জ্যাকেট পরার কারণে পোশাকের সাজ-সজ্জা সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে বাইরে অনুষ্ঠান থাকলে। আরও পড়ুন: শীতের আরাম মোজা, সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলে যৌন সামঞ্জস্য, সম্পর্কের অদৃশ্য শক্তিশালী বন্ধন সঙ্গীর জন্মদিন ভুলে গেছেন? শেষ মুহূর্তে মন জয় করার উপায় প্রথম রাতে অস্বস্তির সম্ভাব্য কারণ শারীরিক অসুস্থতা: শীত মানেই শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি বা জ্বরের প্রবণতা বেশি থাকে। বিয়ের প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানের দীর্ঘ ক্লান্তির পর যদি ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতে না পারেন, নানা রকম শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি: দিনভর দৌড়ঝাঁপ ও রাত জাগার ফলে শরীর ও মন একেবারেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে এর ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক সময়ের মতো সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাসর ঘরের প্রস্তুতি: তুলনামূলক শীতল পরিবেশে ঘর গরম না থাকলে দীর্ঘ সময় বসা বা শুয়ে থাকা কষ্টদায়ক হতে পারে; পর্যাপ্ত হিটার বা উষ্ণতার ব্যবস্থা না থাকলে শরীর ঠান্ডা থেকে অস্বস্তি তৈরি হয়। মানসিক প্রস্তুতির অভাব: বিয়ে শুধু উৎসব নয়, এটি জীবনের একটি বড় পরিবর্তন। শীতের উৎসবের পটভূমিতে যদি মানসিক প্রস্তুতি ঠিকঠাক না থাকে, নতুন জীবনের প্রতি উৎকণ্ঠা বা চাপ অনুভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক। শীতের বিয়ের আগে করণীয় বর ও কনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। উষ্ণতা উপযোগী ভেন্যু নির্বাচন করা দরকার। বাসর ঘরে পর্যাপ্ত হিটার ও উষ্ণতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠান শুরু করা যেতে পারে দুপুর বা সন্ধ্যার দিকে, যাতে দিনের আলো ও তাপের সুবিধা পাওয়া যায়। মেনুতে রাখা যেতে পারে গরম পানীয়, স্যুপ, বারবিকিউ ইত্যাদি। শীতকাল নিঃসন্দেহে বিয়ের জন্য আরামদায়ক সময়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া সুখের মুহূর্তও চাপময় হয়ে উঠতে পারে। তাই ছোট ছোট বিষয়গুলো আগে থেকেই দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তথ্যসূত্র: ওয়েব২বি.কম, টাইমস অব ইন্ডিয়া জেএস/