রাজশাহীতে ৬টি আসনে ৩৮টি মনোনয়নের ১৭টি বাতিল, স্থগিত ১

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৩৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৭টি বাতিল ও একটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই শেষে বাকি মনোনয়নপত্রগুলো বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহীর ছয়টি আসনের সংসদ সদস্য পদে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে প্রার্থীদের যোগ্যতা, হলফনামা, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন, আয়কর ও ঋণ সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আখতার।রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী–তানোর) আসনের তিনটি মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিএনপির প্রার্থী শরিফ উদ্দীন, এবি পার্টির আবদুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মৃত ভোটারের সাক্ষর, আয়কর রিটার্নে সাক্ষরের ঘাটতি ও ভ্যারিফিকেশন জটিলতার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল সায়াদ, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল তারেক এবং গণ অধিকার পরিষদের মির মোহাম্মদ শাহজাহানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ২টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মো. মিজানুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. মেজবাউল ইসলাম ও নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণ খেলাপির দায়ে এলডিপির মো. ওয়াহেদুজ্জামান এবং মৃত ভোটারের সাক্ষর ও সমর্থনে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন ও সালেহ আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।আরও পড়ুন: রাজশাহীর দুই আসনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলরাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে ৪টি মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় পার্টির মো. আফজাল হোসেনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হলফনামায় সাক্ষর না থাকা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের অমিল, কর খেলাপি ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনে ত্রুটির কারণে ইসলামী আন্দোলনের মো. ফজলুর রহমান, আমজনতার দলের মো. সাইদ পরভেজ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন ও মোসা. হাবিবা বেগমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ২টি মনোনয়ন। এরমধ্যে বিএনপির ডি এম ডি জিয়াউর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল বারী সরদারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় অঙ্গীকারনামা ও হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির মো. ফজলুল হক এবং হলফনামায় সাক্ষর না থাকায় ইসলামী আন্দোলনের মো. তাজুল ইসলাম খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।রাজশাহী-৫ (পুটিয়া-দুর্গাপুর) আসনে ৪টি মনোনয়ন বাতিল ও একটি স্থগিত করা হয়েছে। এই আসনেবিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মনজুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় আয় সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় ইসলামী আন্দোলনের মো. রুহুল আমিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. আলতাফ হোসেন মোল্লার মনোনয়ন ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রায়হান কাওসার, মো. জুলফার নাঈম মোস্তফা, রেজাউল করিম ও মো. ইসফা খায়রুল হকের মনোনয়ন বিভিন্ন অনিয়ম ও সাক্ষর জটিলতায় বাতিল করা হয়। আরও পড়ুন: পুলিশ স্বামীর ইউনিফর্ম পরে টিকটক, কনস্টেবল প্রত্যাহাররাজশাহী-৬ (বাঘা–চারঘাট) আসনেও ২টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এখানে বিএনপির মো. আবু সাইদ চাঁদ ও জামায়াতে ইসলামীর মো. নাজমুল হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর জাতীয় পার্টির মো. ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুস সালাম সুরজের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত ঘোষণার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার জানান, স্থগিত মনোনয়নপত্র ও হলফনামা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানান তিনি।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দুটি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সে হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন ৩৭ জন প্রার্থী।তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারিখ হলেও রাজশাহীতে আজই চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।