স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। অসুস্থ অবস্থায় মাথায় ২৭টি সেলাই দিতে হয় তাকে। তবে শারীরিক কষ্টের মধ্যেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই শিল্পী। কারণ, অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তৌসিফ।শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তৌসিফ। তিনি লিখেছেন, প্রিয় শ্রোতারা, মনোযোগ দিয়ে পড়বেন প্লিজ। গতকাল আমার স্ট্রোকের খবরে বেশ কিছু ব্যক্তি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এটাতে আমার যায় আসে না, তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার অপরাধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছি।তৌসিফ তার পোস্টে জানান, তার নাম ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোয় তিনি মর্মাহত। লেখেন, আমার বাবা একজন বিসিএস ক্যাডার, তিনি তিন জেলায় সিভিল সার্জন ছিলেন। আমরা তিন ভাই-বোন এবং আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরাও ডাক্তার। ছোট ভাই একজন মেধাবী প্রকৌশলী। যারা আমার ও আমার পরিবার সম্পর্কে লেখে, তাদের জানা উচিত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হতে বা একজন কার্ডিওলজিস্ট হতে কত পড়াশোনা করতে হয়। আরও পড়ুন: অঝোরে কাঁদলেন গায়ক মনির খাননিজের পরিচয় স্পষ্ট করে তৌসিফ উল্লেখ করেন, আমি শুধু বলতে চাই, আমার নাম ডাক্তার তৌসিফ আহমেদ। আমি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পড়াশোনা করেছি। এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা বা টিউশন ফি কত, তা নিয়ে যারা ভুল ধারণা দিয়েছেন তাদের বিষয়টি জানা উচিত।অসুস্থতার বিষয়ে ‘দূরে কোথাও’ খ্যাত এই গায়ক লেখেন, আমার হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিস আরও ১৫ বছর আগেই ধরা পড়েছিল। মূলত ‘সিভিয়ার হাইপারগ্লাইসেমিয়া’র কারণে আমার এই স্ট্রোক হয়েছে। আমার বাবা-মা অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে আসলেও তাদের কোনো অহংকার নেই।ক্ষোভ প্রকাশ করে তৌসিফ আরও বলেন, প্লিজ আমার পরিবারকে ছোট করবেন না। তারা সবাই অনেক মেধাবী ও মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। আমার মনে হয়েছে আমার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমার পরিবারকে হেয় করা হয়েছে এবং আমার সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আজ-কালকের মধ্যেই নেব ইনশাআল্লাহ। আরও পড়ুন: ছায়ানটে হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ অর্ণবেরসবশেষে তিনি অনুরোধ করে বলেন, আমার সম্পর্কে না জেনে প্লিজ মিথ্যা কোনো গুজব ছড়াবেন না। আপনি শত কোটি টাকার হিসেবে অন্য কাউকে গরীব বলতে পারেন না।উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে স্ত্রী ও সন্তান তাকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি বাসায় ফেরেন।