চট্টগ্রামের পাঁচ আসনে ১২ মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ ৩৩

চট্টগ্রামের পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৪৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে, বাকি ৩৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হয় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫, ৬, ৭ ও ১২ আসনের মনোনয়ন যাচাই অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)এ আসনে দাখিল করা ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এ টি এম পারভেজের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যাচাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির আসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার ছিদ্দিক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)এ আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন দলীয়ভাবে দাখিল না করায় বাতিল করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক, মো. ইমাম উদ্দিন রিয়াদ ও শাকিলা ফারাজানার মনোনয়ন ১ শতাংশ ভোটারের সই যাচাইয়ে অনিয়ম পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই শুরুর আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবকারী সালাউদ্দিন খোরশেদকে ধাওয়া দেওয়া হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল হলে বিজয় মিছিল করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)এ আসনে দাখিল করা পাঁচটি মনোনয়নপত্রই যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির গোলাম আকবর খন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী। এদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই দলের দুটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বিধি অনুযায়ী প্রথম দাখিল করা মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় দ্বিতীয়টি যাচাই করা হয়নি। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)এ আসনে যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ছয়জনেরটা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ, ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন এবং খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)এ আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং চারজনেরটা বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের এস এম বেলাল নুর, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু ও গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এলডিপির এম এয়াকুব আলী ঋণ খেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বাতিল করা হয়। দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সৈয়দ শরীফ আহমেদের মনোনয়ন ভুয়া স্বাক্ষরের কারণে বাতিল করা হয়। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। আগামীকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮, ৯ ও ১০ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩ থেকে ১৬ আসনের মনোনয়ন যাচাই করা হবে। তফসিল অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি থেকে চারদিন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমআরএএইচ/এমএএইচ/এমএস