নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং চারটি মনোনয়নপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই বাছাই কার্যক্রম শেষে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।তিনি জানান, জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থী ৫৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই বাছাই শেষে ৩৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকা, হলফনামায় অসম্পূর্ণ বা ভ্রান্ত তথ্য, স্বাক্ষরের ঘাটতি, ঋণখেলাপি থাকা, তিতাস গ্যাস ও হোল্ডিং ট্যাক্সের বিল বকেয়া এবং দলীয় মনোনয়ন না থাকায় ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।এ ছাড়া স্থগিত চারটি মনোনয়নপত্রের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আয়কর বকেয়া এবং গ্যাস বিল সংক্রান্ত বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে বিকেল ৪টার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ৬টি আসনে ৩৮টি মনোনয়নের ১৭টি বাতিল, স্থগিত ১আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি কমিটির ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’আসনভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন বৈধ এবং দুজন বাতিল হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ১০ জনের মধ্যে তিনজন বৈধ, চারজন বাতিল এবং তিনজনের আবেদন স্থগিত রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ জনের মধ্যে ১০ জন বৈধ এবং একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টিসহ ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, স্থগিত ইসলামী আন্দোলননারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন বৈধ, পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজনের আবেদন স্থগিত রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১২ প্রার্থীর মধ্যে আটজন বৈধ এবং চারজন বাতিল ঘোষিত হয়েছেন।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’এ সময় উপস্থিত ছিলেন: জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও সহকারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান।