ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই হামলার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্রোরেসকে ‘আটক করে দেশ থেকে তুলে আনা হয়েছে’।ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করছে। পরিস্থিতি মোকাবিরায় ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কলম্বিয়া কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, পুরো বিশ্বকে সতর্ক করছি যে, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে। কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্র তার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, যেকোনো ধরণের সশস্ত্র সংঘাতের ওপর শান্তি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীবন ও মানবিক মর্যাদা রক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ জাতিসংঘ এবং আমেরিকান স্টেটস অর্গানাইজেশনে (ওএএস) জরুরি বৈঠকের আহ্বানও জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। পেত্রো বলেন, ‘তারা এই মুহূর্তে কারাকাসে বোমা হামলা চালাচ্ছে। পুরো বিশ্ব সতর্ক হোন, তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে। ওএএস এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে বৈঠকে বসতে হবে।’ কিউবা কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলাকে ‘সন্ত্রসী হামলা’ অভিহিত করে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কিউবার ‘শান্তির অঞ্চল’ ‘নির্মমভাবে আক্রমণ’ করা হচ্ছে। মার্কিন এই পদক্ষেপ কেবল ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি নয়, পুরো উত্তর আমেরিকার জন্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ‘স্বদেশ অথবা মৃত্যু, আমরা জয়ী হবই’ বিপ্লবী এই স্লোগান দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউবার দূতাবাস থেকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতেও ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। ইরান এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানায়। রাশিয়া রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভেনেজুয়েলাকে অবশ্যই বাইরে থেকে কোনো ধ্বংসাত্মক সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের নীতির প্রতি আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, উত্তেজনা আর না বাড়ানো এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজে বের করার উপর মনোনিবেশ করা গুরুত্বপূর্ণ।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক প্রতিনিধি কাজা কালাস বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ ঘটনাবলী নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কারাকাসে অবস্থিত ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলেছেন। ইইউ ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেছেন, ‘ইইউ বারবার বলেছে যে মাদুরোর বৈধতার অভাব রয়েছে এবং তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে কথা বলেছেন। সকল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের নীতি এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমরা সংযমের আহ্বান জানাই। দেশে ইইউ নাগরিকদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ স্পেন স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা হ্রাস, সংযম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করার জন্য আলোচক হিসেবে কাজ করতে চায় স্পেন। ইতালি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি ‘ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন’, এবং দেশটিতে ইতালীয় নাগরিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেলোনি আরও বলেন, তিনি ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও ‌তাজানির সাথে অব্যাহত যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইতালীয় ভেনেজুয়েলায় বাস করছেন, যাদের বেশিরভাগেরই দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে।