রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকার ২০ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।শনিবার (০৩ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ঢাকার ২০ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ১৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আশরাফুল তার মনোনায়ন স্থগিত আছে। বাতিলের কারণ লিখিতভাবে তাকে জানানো হবে। তিনি নির্বাচন কমিশন বা আদালতে আপিল করতে পারবেন। সকাল ১০টা থেকে তিন জন রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তিনটি পৃথক কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলার এসব ২০টি আসন থেকে মোট ২৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, যে তিনটি কার্যালয়ে যাচাই কার্যক্রম চলছে, সেগুলো হলো—ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা-৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই চলছে ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের মনোনয়নপত্র। আর ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই হচ্ছে ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০ আসনের মনোনয়নপত্র। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, সারা দেশে মনোনয়নপত্র যাচাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। কোন আসনে কারা প্রার্থী- ঢাকা-১ আসনে (দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা) প্রার্থীরা হলেন—খন্দকার আবু আশফাক (বিএনপি), মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (জামায়াত), ফরহাদ হোসাইন (খেলাফত মজলিস), নুরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), নাসির উদ্দিন মোল্লা (জাতীয় পার্টি) ও শেখ মোহাম্মদ আলী (লেবার পার্টি)। এ ছাড়া সাবেক এক বিএনপি নেতার মেয়ে ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অন্তরা সেলিমা হুদা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ঢাকা–২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন আমান উল্লাহ আমান (বিএনপি), আবদুল হক (জামায়াত) ও জহিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)। এই আসনটি কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী, শাক্তা, তারানগর, বাস্তা, রোহিতপুর, কলাতিয়া ও হযরতপুর এবং সাভার উপজেলার ভাকুর্তা, আমিনবাজার ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহিনুর ইসলাম (জামায়াত), বাচ্চু ভূইয়াসহ (গণসংহতি আন্দোলন) মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এই আসনটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর, জিনজিরা, শুভাঢ্যা, কোণ্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৪ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে আছেন তানভীর আহমেদ (বিএনপি), সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (জামায়াত), মোসাদ্দেক বিল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসন। ঢাকা–৫ আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন নবীউল্লাহ (বিএনপি), কামাল হোসেন (জামায়াত), এস এম শাহরিয়া (এনসিপি), আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি (খেলাফত আন্দোলন) ও সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (গণঅধিকার পরিষদ)। এই আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৬ আসনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, আবদুল মান্নান (জামায়াত), আমির উদ্দিন আহমেদসহ (জাতীয় পার্টি) মোট সাতজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৭ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আছেন হামিদুর রহমান (বিএনপি), এনায়েত উল্লাহ (জামায়াত) ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন (জাতীয় পার্টি)। এ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা–৮ আসনে (মতিঝিল-পল্টন-শাহজাহানপুর-শাহবাগ ও রমনা) মনোনয়ন দিয়েছেন মির্জা আব্বাস (বিএনপি), নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এনসিপি), কেফায়েতুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মেঘনা আলমসহ (গণঅধিকার পরিষদ) মোট ১২ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–৯ আসনে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন হাবিবুর রশিদ (বিএনপি), কবির আহমদ (জামায়াত), শাহ ইফতেখার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), কাজী আবুল খায়ের (জাতীয় পার্টি), জাভেদ মিয়া (এনসিপি) এবং সদ্য এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা তাসনিম জারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসন। ঢাকা–১০ আসনে বিএনপির রবিউল আলম, আব্দুল আউয়াল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), জসিম উদ্দিন সরকারসহ (জামায়াত) আরও ১০ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা–১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এম এ কাইয়ুম (বিএনপি), আবদুল কাদের (গণফোরাম), শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদসহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) মোট ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১২ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, লেবার পার্টি, আমজনতার দল ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) শীর্ষ নেতারা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। পাশাপাশি জামায়াত নেতা সাইফুল আলম, তাসলিমা আখতার (গণসংহতি আন্দোলন), মাহমুদুল হাসানসহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আরও অনেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন মামুনুল হক, ববি হাজ্জাজ, মুরাদ হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মিজানুর রহমানসহ (গণঅধিকার পরিষদ) মোট ১১ জন। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর (আংশিক) নিয়ে গঠিত এ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৪ আসনে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তি মীর আহমাদ বিন কাসেম (জামায়াত), 'মায়ের ডাক' সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি (বিএনপি), আবু ইউসুফসহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৫ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, শফিকুল ইসলাম খান (বিএনপি), সাজেদুল হক রুবেল (সিপিবি) ও শফিক ইসলাম (গণফোরাম) উল্লেখযোগ্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৬ আসনে সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক (বিএনপি), আব্দুল বাতেন (জামায়াত), মামুন হোসেনসহ (গণঅধিকার পরিষদ) মোট ১৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এটি তার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এ আসনে আরও মনোনয়ন দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ, এসএম খালিদুজ্জামান (জামায়াত), মোহাম্মদ উল্লাহসহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) অন্যরা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নং ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (বিএনপি), মুহাম্মদ আশরাফুল হক (জামায়াত), আরিফুল ইসলাম (এনসিপি), আনোয়ার হোসেনসহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। বৃহত্তর উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নং ওয়ার্ড এবং বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে এই আসন গঠিত। ঢাকা–১৯ আসনে আফজাল হোসাইন (জামায়াত), দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন (বিএনপি), চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (এলডিপি), দিলশানা পারুলসহ (এনসিপি) আরও সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এই আসনটি সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া ইউনিয়ন, সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা এবং সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। ঢাকা–২০ আসনে তমিজ উদ্দিন (বিএনপি), আব্দুর রউফ (জামায়াত), নাবিলা তাসনিদ (এনসিপি), আশরাফ আলীসহ (খেলাফত মজলিস) একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে অর্ধশত দলের প্রার্থী রয়েছে দুই হাজারের বেশি; বাকিরা স্বতন্ত্র। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে। বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে ২০ জানুয়ারি; পরদিন তাদের প্রতীক দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।