ইলিশ উৎপাদনে আশার কথা জানালেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা

নানা শঙ্কার মধ্যেও দেশে ইলিশের উৎপাদন নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন মৎস্যবিজ্ঞানিরা। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ কী পরিমাণ ডিম ছেড়েছে ও সেই ডিম থেকে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। প্রয়োজনীয় পরিবেশ পেলে সঙ্কট নয়, বাড়তে পারে উৎপাদনের হার। এরইমধ্যে সাগর ও সাগর মোহনা এবং ইলিশ বিচরণের নদ-নদীতে গবেষণা চালিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক দল।একসময় বছরজুড়েই ইলিশের প্রাচুর্য ছিল। ভরা মৌসুমে সেই ধারা ছাড়িয়ে যেত আরও। এতে বাজারে ভোক্তাপর্যায়ে ইলিশের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগের জৌলুস নেই। মৎস্য বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফলেও ফুটে উঠেছে ভিন্ন চিত্র। অতীতের মতো এবারের প্রজনন মৌসুমেও পর্যাপ্ত ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ। যা ৩৭ দশমিক ৩৯ হাজার কোটি জাটকা যুক্ত হয়েছে। গত অক্টোবরে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের আগে ও পরে, গত কিছুদিন আগেও সাগর, সাগর মোহনা এবং ইলিশ বিচরণ করে এমন নদ-নদীর ৭ হাজার ৩শ ৫০ কিলোমিটার এলাকার ৭টি পয়েন্টে নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। তাতেই আশার আলো দেখছেন তারা।  আরও পড়ুন: পিরোজপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৪৯১টি হাঙর মাছ জব্দ নভেম্বর থেকে জুন এই ৮ মাস জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন অব্যাহত থাকবে এমনটা দাবি করছেন, গবেষণা দলের প্রধান ইলিশ গবেষক ও মৎস্য বিজ্ঞানী মো. আবু কাউছার দিদার তিনি আরও বলেন, শুধু বছরের নভেম্বর থেকে জুন এই ৮ মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসময় জাটকা থেকে পরিপূর্ণ ইলিশ হয়। যা পরবর্তীতে ৬শ গ্রাম থেকে দেড় দুই কেজি পর্যন্ত ওজনে বাড়ে। সুতরাং আমাদের অবশ্যই জাটকা সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা এবং অক্টোবরের ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। যাতে ওই সময়টিতে জেলেরা অভয়াশ্রমে নেমে মাছ শিকার করতে না পারে। আর এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেই কেবল ইলিশের সুদিন ফিরে আসবে। ইলিশ গবেষক আরও জানান, বিগত চার দশক ধরে সরকারের ইলিশ রক্ষার নানা তোড়জোড়ের কারণে ৬৭ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে ফলে দেশে এখন ইলিশের উৎপাদন প্রায় পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টন।