‘এটা নগ্ন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’: ভেনেজুয়েলায় হামলার নিন্দায় ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিন্দা না জানালেও বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনপ্রণেতা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা এই হামলাকে ‘একটি সার্বভৌম দেশ ও জাতির ওপর অবৈধ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। আনাদোলু এজেন্সি।ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে তিনি এই হামলার নিন্দা জানাননি। তিনি বলেছেন, অভিযানে যুক্তরাজ্য ‘কোনওভাবেই জড়িত ছিল না’। জানিয়েছেন, নিকোলাস মাদুরোকে ‘আটক’ করার বিষয়ে তিনি এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলেননি।  তবে বিরোধী দল ইয়োর পার্টির আইনপ্রণেতা জারাহ সুলতানা এক এক্স বার্তায় লিখেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে এবং এই হামলা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটা নগ্ন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ: একটি সার্বভৌম সরকারকে উৎখাত করার এবং এর সম্পদ লুণ্ঠনের লক্ষ্যে কারাকাসের ওপর একটি অবৈধ আক্রমণ।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে এই হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘(প্রধানমন্ত্রী কিয়ার) স্টারমারের লেবার সরকারকে অবশ্যই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই হামলার নিন্দা জানাতে হবে। ভেনেজুয়েলার জনগণের সাথে সংহতি জানাচ্ছি।’ আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেছেন, স্টারমার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের এই ‘অবৈধ হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের‘ নিন্দা জানানো উচিৎ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় অস্ত্র সরবরাহ এবং (যুক্তরাজ্যের সাথে) বিশেষ সম্পর্কের পুজো’ করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন বিশ্বাস করেন যে ‘তিনি দায়মুক্তির সাথে কাজ করতে পারেন।’ লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের অবৈধ পদক্ষেপের’ নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরণের বেআইনি আক্রমণ ‘আমাদের সকলকে অনিরাপদ করে তুলছে’। তিনি আরও বলেন, এই হামলার মধ্যদিয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো লোকদের ‘অন্যান্য দেশকে দায়মুক্তিসহ আক্রমণ করার জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দিচ্ছেন। আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া আইনপ্রণেতা এবং ইয়োর পার্টির অন্যতম নেতা জেরেমি করবিন ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন হামলাকে ‘বিনা উসকানিতে অবৈধ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্জনের একটি ‘নির্লজ্জ প্রচেষ্টা’। এক এক্স বার্তায় করবিন আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং যারাই সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশ্বাসী তাদের এর নিন্দা করা উচিৎ।’ স্টারমারের নিজ দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা রিচার্ড বার্গন মার্কিন হামলাকে ‘একটি সার্বভৌম দেশের ওপর অবৈধ আক্রমণ’ অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরাক যুদ্ধের মতো ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের সরকার বদলের প্রচেষ্টা দেশটির তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য।’  লেবার পার্টির আরেক আইনপ্রণেতা জন ম্যাকডোনেল প্রশ্ন রেখে বলেন, মার্কিন হামলা ‘কোনো আইনি অনুমোদন ছাড়াই, জাতিসংঘের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই আক্রমণ এবং পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের মধ্যে কী পার্থক্য আছে?’ আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের এক এক্স বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘যদি যুক্তরাজ্য সরকার আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে কিয়ার স্টারমারকে অবশ্যই এর নিন্দা জানাতে হবে।’ লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা নাদিয়া হুইটোমও মার্কিন হামলাকে ‘একটি সার্বভৌম দেশ ও জাতির ওপর অবৈধ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার তেলের একটি ‘স্পষ্ট দখল চেষ্টা’, যা নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।