মাগুরায় জমজমাট ফুটপাতের পিঠার দোকান

শীত মৌসুমে মাগুরায় ফুটপাত, রাস্তার পাশে পিঠার অস্থায়ী দোকানগুলোতে সাধারণ-মধ্যবিত্তসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের ভিড় বাড়ছে। এসব দোকানে বিকেল ৪টার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শীতের পিঠা খেতে মানুষের ভিড় বাড়ে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় মাগুরা জেলা ঐতিহ্যবাহী নোমানি ময়দান গেটে এ দৃশ্য দেখা যায়। এসব দোকানে চিতই পিঠা, ভাপাপুলি পিঠা বেশি চলে। তবে শহরের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি পছন্দ চিতই পিঠা। শহরতলি নিজনান্দুয়ালি গ্রামের বাসিন্দা মো. বদরুল খা বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে এই পিঠার ব্যবসা করছি। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৪০ কেজি চাল লাগে সব ধরনের পিঠা বানাতে। আমরা চিতই পিঠা, ভাজা পিঠা, ভাপা পিঠা তৈরি করি। প্রতি পিস পিঠা ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বিক্রি করি। প্রতি বছর এই জায়গায় শীতের সময় ব্যবসা খুবই জমজমাট হয়ে ওঠে। ৩ মাস আমাদের এই পিঠার ব্যবসা হয় পরে আমরা অন্য পেশায় চলে যাই। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা বিক্রি হয় এর ভেতরে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাভ হয়। পিঠা বিক্রেতা হামিদা জানান, মৌসুমে আমি শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার সংলগ্ন রাস্তায় দীর্ঘদিন পিঠা বিক্রি করে আসছি। এখানে চিতই পিঠ, ভাপা পিঠ বেশি বিক্রি হয়। বিকেল ৪ টার পর থেকে শুরু হয় আমার দোকানের সাজসজ্জা। রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ভিড় থাকে। প্রতি খোলা চিতই পিঠা বিক্রি হয় ৩০ টাকা। প্রতি পিস ভাপা পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকা। প্রতিদিন আমার সাত থেকে আটশত টাকার পিঠা বিক্রি হয়। পিঠা বিক্রেতা হাকিম মোল্লা জানান, আমি শহরের নোমানি ময়দান সংলগ্ন গেট এলাকায় রাস্তার পাশে শীতের পিঠা বিক্রি করে আসছি দশ বছর। এখানে আমি চিতই পিঠ, ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, তেলে ভাজা পিঠ বিক্রি করি। প্রতিদিন আমার ১৫ থেকে ১৬০০ টাকার পিঠা বিক্রি হয়। পিঠার ক্রেতা নাজমুন নাহার রত্না বলেন, আমি মাঝে মাঝে রাস্তার পাশের ফুটপাতের দোকান থেকে পিঠা কিনে বাড়িতে নিয়ে আসি। চিতই পিঠ, ভাপা পিঠা গ্যাসের চুলায় ভালো হয় না। তাই ফুটপাতের দোকানগুলোতে এই পিঠাগুলোর স্বাদ সুন্দরও চমৎকার। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এনএইচআর